ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের শাস্তি প্রদান সংক্রান্ত একটি খসড়া প্রস্তাবের ওপর মঙ্গলবার নিরাপত্তা পরিষদে ভোটাভুটি হবে। ওই প্রস্তাবে দখলকৃত এলাকা থেকে হুতিদের প্রত্যাহার এবং তাদেরকে শাস্তি দিতে অস্ত্র ও অন্যান্য নিষেধাজ্ঞার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
জর্ডান ও উপসাগরীয় দেশগুলো এই খসড়া প্রস্তাব তৈরি করেছে। তবে এতে রাশিয়া ভেটো দিতে পারে। কারণ হুতিদের মিত্র ইরানের সঙ্গে রাশিয়ার ঘনিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে।
গত ২৬ মার্চ ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের ওপর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনী বিমান হামলা শুরু করার পর এই প্রথমবারের মত নিরাপত্তা পরিষদে এ সংক্রান্ত কোন খসড়া প্রস্তাবে ভোটভুটি হচ্ছে। আর এর মাধ্যমে ইয়েমেনের ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম কোন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে পরিষদ।
বার্তা সংস্থা এএফপি’র কাছে খসড়া প্রস্তাবের একটি কপি এসেছে। এতে বলা হয়েছে, সানা ও অন্যান্য দখলকৃত এলাকা থেকে হুতিদের প্রত্যাহার এবং তাদের সহিংস অভিযান বন্ধ করতে হবে।
খসড়া প্রস্তাবে ইয়েমেনে মানবিক কারণে অস্ত্রবিরতির বিষয়টি যুক্ত করার দাবি জানায় রাশিয়া। একই সাথে দেশটি সহিংসতা পরিহারের আহবানও জানায়। রাশিয়ার দাবি নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনার পর সোমবার খসড়া প্রস্তাবে কিছু পরিবর্তনের ব্যাপারে ঐকমত্য হয়।
খসড়া প্রস্তাবে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় হুতি নেতা আব্দুল মালিক আল-হুতি ও সাবেক প্রেসিডেন্ট আলী আব্দুল্লাহ সালেহ’র জ্যেষ্ঠ পুত্র আহমেদের নাম অন্তর্ভূক্ত থাকবে। তাদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও তাদের সম্পদ জব্দ করা হবে।
গত কয়েক মাস ধরে ইয়েমেনে রাজনৈতিক অচলাবস্থা চলছে। গত সেপ্টেম্বরে বিদ্রোহী শিয়া মুসলিম গোষ্ঠি হুতি’র যোদ্ধারা রাজধানী দখল করে নেয়। এক মাস আগে তারা প্রেসিডেন্টের প্রাসাদ দখল করে প্রেসিডেন্ট আবদ্রাবো মনসুর হাদি ও তার সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করে। এরপর হাদি গৃহবন্দিত্ব থেকে দক্ষিণাঞ্চলের এডেন নগরীতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। গত মাসে হুতি ও বিদ্রোহী সেনা ইউনিটের সদস্যরা এডেন নগরীর দিকে অগ্রসর হলে হাদি সৌদি আরব চলে যান।
সানা দখলের জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ গত নভেম্বরে সাবেক প্রেসিডেন্ট সালেহ এবং দুই হুতি কমান্ডার আব্দ আল-খালিক আল-হুতি ও আব্দুল্লাহ ইয়াহিয়া আল-হাকিমের ওপর সুনির্দিষ্ট কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
জেডআই





