পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের পর এবার ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারও ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের নায়ক নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর গোপন নথি প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিবিসি বাংলা ও এনডিটিভির খবরে বলা হয়, বুধবার নেতাজীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও গোয়েন্দা সংস্থার কাছে সংরক্ষিত নেতাজীর এসব গোপন নথি প্রকাশ করার ঘোষণা দেন।
সুভাষ চন্দ্র বসুর গোপন নথি প্রকাশের বিষয়ে টুইটও করেছেন মোদী। ২০১৬ সালের ২৩ জানুয়ারি নেতাজীর ১১৮তম জন্মবার্ষিকীর দিন থেকে শতাধিক গোপন নথি প্রকাশ শুরু হবে।
সুভাষ বসুর বিষয়ে রাশিয়া, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যের হাতে থাকা গোপন নথিও প্রকাশের দাবি রয়েছে গবেষকদের। ডিসেম্বরে রাশিয়ার কাছে এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হবে।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর কলকাতা পুলিশের সংগ্রহশালায় থাকা নেতাজীর বিষয়ে গোপন ৬৪টি নথি প্রথমবারের মতো প্রকাশ করা হয়। কিন্তু তাতে বিমান দুর্ঘটনায় সুভাষ বসুর অন্তর্ধান হওয়ার ৭০ বছরের রহস্যের মীমাংসা হয়নি ।
সর্বভারতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্ব দেওয়া সুভাষ বসু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আজাদ হিন্দ ফৌজ গড়ে জাপানের সহযোগিতায় ভারতকে ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত করতে সশস্ত্র লড়াইয়ে নেমেছিলেন।
১৯৪১ সালে ভারতে গৃহবন্দিদশা থেকে নেতাজী পালিয়ে যান এবং এরপর তার ভাগ্যে ঠিক কী ঘটেছিল, তা আজও এক রহস্য।
তবে গবেষকরা মনে করছেন, দিল্লির নথিগুলো প্রকাশ করা হলে ১৯৪৫ সালে হাইহোকুর ওই বিমান দুর্ঘটনা নেতাজীর মৃত্যু হয়েছি কীনা, সে ব্যাপারে জানাও যেতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকার নেতাজীর গোপন নথি প্রকাশের পর থেকেই দিল্লির নথিগুলোও প্রকাশের চাপ ছিল।
নিজেকে একাধিকবার নেতাজীর অনুসারী বলা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, “নথিগুলো প্রকাশের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে। এরই মধ্যে প্রথম দফায় যেসব ফাইল যাচাই-বাছাই করা হয়েছে, সেগুলো ২ জানুয়ারি প্রকাশ করা হবে।”
ভারত সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন নেতাজীর মেয়ে অনিতা বসু।
এনডিটিভিকে তিনি জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন, তারা বাবা বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন, তারপরও গোপন নথিগুলো প্রকাশের উদ্যোগে তিনি আনন্দিত।
সুভাষ বসুর আত্মীয় তৃণমূল কংগ্রেসের এমপি সুগত বসুও প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন।
কেএইচ





