বাংলাদেশী অধ্যুষিত ওজনপার্কের লিবার্টি এভিনিউ ও ৭৯ স্ট্রীটের কোনায় প্রকাশ্য দিবালোকে দু’জন বাংলাদেশীকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে দুর্বৃত্তরা। খুব কাছ থেকেই তাদের লক্ষ্য কওে গুলি ছোড়া হয়। এর আগে দুর্বৃত্তদ্বয় জানাতে চায় ‘হু ইজ ইমাম’। তাদের প্রশ্নের উত্তরে ইমাম আলাউদ্দিন আকুনজি সহজ-সরল ভাষায় দৃঢ়তার সাথে বলেন ‘আই অ্যাম ইমাম’। এরপরই দুর্বৃত্তরা প্রথমে ইমাম আলাউদ্দিনকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং পরবর্তীতে তারা মিয়াকে লক্ষ্য করে গুলি করে।
নিহতের ইমামের বাড়ী বৃহত্তর সিলেটের হবিগঞ্জ জেলায় আর তারা মিয়ার বাড়ী সিলেটের গোলাপগঞ্জ বলে জানা গেছে। মাত্র তিন বছর আগে ইমাম আলাউদ্দিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী হয়ে নিউইয়র্কে আসেন এবং আল ফোরকান মসজিদের ইমামের দায়িত্ব নেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, জোহর নামাজ শেষ ইমাম আলাউদ্দীন বাড়ী ফিরছিলেন এসময় দুই বন্দুকধারী গুলি ছুঁড়লে আলাউদ্দিন মাথায় এবং তারা মিয়া বুকে গুলিবিদ্ধ হন। তারা সপরিবারে ওজনপার্কে বসবাস করছিলেন।
জানা গেছে জোহরের নামাযের সময় তিনি মসুল্লীদের সাথে মসজিদ থেকে জোহরের নাম আদায় করে বাসার দিকে ফিরছিলেন। ঘটনার সময় ইমামের সাথে থাকা মুসল্লি ও স্থানীয় বাসিন্দা তারা মিয়াও গুরুতর আহত হন। তাকে জ্যামাইকা হাসপাতালে ভর্তি করে লাইফ সাপোর্টে রাখার কয়েক ঘন্টা পর তিনি মারা যান। ঘটনার সাথে সাথে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা চাদরে ঢেকে দেয় এনওয়াইপিডি’সহ সংশ্লিষ্ট বাহিনী। দৃর্বৃত্তদের মধ্যে একজন স্প্যানীশ আরেকজন কৃষ্ণাঙ্গ বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাদের গ্রেফতার করা যায়নি।
ঘটনাটি হেইট ক্রাইম হিসেবে অভিহিত করেছেন কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ। এদিকে ঘটনার পর পরই সিটি পুলিশ ঘটনাস্থলে কড়া নিরাপত্তা জোরদার করে তদন্ত শুরু করে। অপরদিকে এই ঘটনায় নিউইয়কের সমগ্র বাংলাদেশী কমিউনিটি প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠেছে। ঘটনাস্থলে হাজার হাজার বাংলাদেশী সমবেত হয়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে প্রকৃত হত্যাকারীকে অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেছেন। সমাবেশে একটিই শ্লোগান ছিলো ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’। নিউইয়র্ক সিটি মেয়র বিল ডি ব্লাজিও ইমাম আলাউদ্দিন আকনজি হত্যার ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।
এদিকে ইমাম সহ দু’জনকে লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তের গুলির ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলীয় প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘হেইট ক্রাইম’ সংক্রান্ত বক্তব্যের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশীরা। আর যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এই প্রথম কোন মসজিদের ইমামকে হত্যা করা হলো।
অপরদিকে ঘটনার পরপরই নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স, ব্রুকলীন, ব্রঙ্কস সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন প্রবাসী বাংলাদেশী’সহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও মূলধারার রাজনীতিবিদরা। শোকাহত পুরো কমিউনিটি। জোহরের নামাজের পর প্রকাশ্য দিবালোকে এ ঘটনা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না, বাংলাদেশী’সহ স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মরদেহ নিউইয়র্কে নাকি বাংলাদেশে দাফন করা হবে এব্যাপারে এখনো কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। ব্যক্তিগত জীবনে ইমাম আলাউদ্দিন অমায়িক, ভদ্র ও নিরহংকারী মানুষ ছিলেন বলে এলাকাবাসীরা জানান।
প্রতিবাদ সমাবেশ: ইমাম আলাউদ্দিন আকুনজি হত্যার প্রতিবাদে তাৎক্ষনিকভাবে ঘটনাস্থলেই শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় প্রবাসী বাংলাদেশীরা এক প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। সমাবেশে বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক’র সভাপতি আজমল হোসেন কুনু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা’র সভাপতি বদরুল হোসেন খান, সাবেক সভাপতি বদরুন নাহার খান মিতা, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট এডভোকেট মোহাম্মদ এন মজুমদার, মুজাহিদুল ইসলাম, আব্দুল শহীদ, কবীর চৌধুরী, মিসবা আবদীন, আবু নাসের, মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, ইমাম আব্দুল মালিক, ষ্টেট অ্যাসেম্বলীম্যান মাইক মিলার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ঘটনাটিকে হেইট ক্রাইম হিসেবে অবহিত করে প্রকৃত হত্যাকারীকে অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন। সমাবেশে একটিই শ্লোগান ছিলো ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’। শত-সহস্র প্রবাসী বাংলাদেশী এই সমাবেশে যোগ দেন।
জেড





