বিগত ২০১৪ সালের ভয়াবহতমো হামলার পর ফের গাজা উপত্যকায় মুসলিম প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস ও ইসলামিক জিহাদের ৩৫ সামরিক স্থাপনা এবং টানেলে বিমান হামলা চালিয়েছে ইহুদিবাদী রাষ্ট্র ইসরাইল। এর মধ্যে কেবল হামাসেরই ২৫টির বেশি সামরিক স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার রাতভর এই হামলা চলে। এর আগে ইসরাইলি আগ্রাসন এবং পরপর দুদিন অন্তত চার নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিকে হত্যার প্রতিবাদে মঙ্গলবার দিনভর ৭০টির বেশি ফিলিস্তিনি রকেট ইসরাইলের দিকে নিক্ষেপ করা হয়। দেশটির বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা তার মধ্যে কয়েকটি ভূপাতিত করে।

বুধবার হামাসের পক্ষ থেকে যুদ্ধ বিরতির ঘোষণা দেয়া হয়। তবে, ইসরাইলের পক্ষ থেকে যুদ্ধ বিরতির ব্যাপারে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।  

ইসরাইলের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, হামাস ও ইসলামিক জিহাদের রকেট হামলার পাল্টা জবাব দিয়েছে তারা।

অপরদিকে, মঙ্গলবার দিন শেষে ইসলামিক জিহাদের এক মুখপাত্র জানায়, শান্তি প্রতিষ্ঠায় তারা একটি অস্ত্রবিরতি চুক্তিতে পৌঁছান। যদিও ইসরাইলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

এর আগে সোমবার গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি সীমান্তের কাছে এক ফিলিস্তিনি গেলে তাকে হত্যা করেন ইহুদিবাদী সেনারা। এর একদিন আগে রোববার ইসরাইলি ট্যাংকের গোলায় আরও তিনজন নিহত হয়েছেন।

এভাবে একের পর এক নির্বিচার হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলে কয়েক ডজন রকেট নিক্ষেপ করে প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস ও ইসলামিক জিহাদ।

গত ৩০ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ফিলিস্তিনিদের নিজেদের বসতবাড়িতে ফেরার বিক্ষোভের উত্তেজনার মধ্যে মঙ্গলবার হামলা পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটল।

গাজায় নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে ইসরাইলি স্নাইপারদের গুলিতে ১২৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন হাজার হাজার।

১৯৪৮ সালে ইহুদি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় সাড়ে সাত লাখ আরব অধিবাসী নিজেদের ভিটেমাটি থেকে বিতাড়িত হন।

পার্শ্ববর্তী আরব দেশ, অধিকৃত পশ্চিমতীর ও অবরুদ্ধ গাজায় এসব আরবরা শরণার্থী হিসেবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

চলতি মাসের ১৪ তারিখে ইসরাইলে মার্কিন দূতাবাস তেলআবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তরের প্রতিবাদে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন ফিলিস্তিনিরা।

এদিন ইসরাইলি স্নাইপাররা ৬২ নিরপরাধ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে। এতে এখন পর্যন্ত কোনো ইসরাইলি সেনা হতাহত হয়নি।

গত ১২ বছর ধরে গাজা উপত্যকা অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইসরাইল। সেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য থেকে শুরু করে ওষুধ সামগ্রী প্রবেশেও বিধিনিষেধ আরোপ করে রাখা হয়েছে।

ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ক্ষুদ্র অস্ত্র ও লোকবল নিয়ে একনাগারে সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস ও ইসলামিক জিহাদ। এর মধ্যে উভয় পক্ষ ২০১৪ সালে সবচেয়ে মারাত্মক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল।

সেই যুদ্ধে অন্তত ২২৫১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছিলেন যাদের বেশিরভাগই ছিলেন বেসামরিক নাগরিক। ওই যুদ্ধে কমপক্ষে ৬৬ দখলদার ইসরাইলি সেনা ও ৬জন বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছিলেন।

কেবি