অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করবে বলে আস্থা ব্যক্ত করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদু।
তিনি বলেছেন, ‘এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। আগামী নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দল অংশ নেবে। এটা যে ঘটবে সে ব্যাপারে আমি আস্থাশীল।’
বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইইউ পর্যবেক্ষক দল আসবে উল্লেখ করে মায়াদু বলেন, অতীতের নির্বাচন থেকে রাজনৈতিক দলগুলো শিক্ষা পেয়েছে। আর এ শিক্ষাই সব রাজনৈতিক দলকে পরবর্তী নির্বাচনে আনবে।
বাংলাদেশে প্রায় তিন বছর দায়িত্ব পালন শেষে বিদায়ের প্রাক্কালে বাংলাদেশের এক সাংবাদিককে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাথে ইইউ’র সহযোগিতার ভিত্তি হচ্ছে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার। ২০০১ সালের সহযোগিতা চুক্তিতে এ কথা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ রয়েছে।
বিএনপির বর্জনের কারণে ২০১৪ সালে অধিকাংশ পদে সংসদ সদস্যরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় ইইউ শেষ মুহূর্তে পর্যবেক্ষক দল পাঠানো থেকে বিরত থাকে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে ইইউ সবচেয়ে বড় দল পাঠিয়ে থাকে, যারা নির্বাচনের বেশ আগে আগে থেকে ধারাবাহিক ও পদ্ধতিগতভাবে পর্যবেক্ষনের কাজটি করে। এই নির্বাচনের পর বাংলাদেশকে দেয়া সার্বিক উন্নয়ন সহযোগিতার পরিমাণ বাড়ানো হলেও ইইউ নির্বাচন কমিশনের প্রকল্পে অথায়ন বন্ধ করে দেয়।
নতুন নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে মায়াদু বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন থেকে সহযোগিতার কোনো অনুরোধ পায়নি। নির্বাচন ঘনিয়ে আসলে আমরা অনুরোধ পেতে পারি। আমরা খোলামেলাভাবেই কমিশনের অনুরোধ বিবেচনা করব।
পর্যবেক্ষক মিশন পাঠানোর মাধ্যমেই ইইউ নির্বাচন কমিশনকে সবচেয়ে বড় সহযোগিতা দিতে পারে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম কেবল নির্বাচনের দিনেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি নির্বাচনের দিন থেকে দুই থেকে তিন মাস আগে শুরু হয়। তাই এই উদ্যোগটি যথেষ্ঠ সময়সাপেক্ষ।
বিদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তায় সরকারের নেয়া পদক্ষেপের প্রশংসা করে মায়াদু বলেন, এখন বিদেশীদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসছে। তবে এখনো সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি স্পেন ও ফিনল্যান্ডে সংঘঠিত জঘন্য ঘটনা সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কে আমাদের চরম সতর্ক থাকার গুরুত্বকে তুলে ধরেছে। ঘটনা ঘটানোর আগে সন্ত্রাসবাদীরা কোনো সতর্কবার্তা দেয় না। তাই আকস্মিক সন্ত্রাসী আক্রমণে আমরা প্রথমবার আশ্চর্য হতে পারি, কিন্তু দ্বিতীয়বার নয়।
রাষ্ট্রদূত বলেন, গত বছর জুলাইতে গুলশানের হোলে আর্টিজানে চরমপন্থীদের ভয়াবহ আক্রমনের পরের মাসেই পুলিশ ঢাকায় আরেকটি হামলার প্রচেষ্টা নশ্যাত করে দিয়েছে। অর্থাৎ এখনও কিছু গ্রুপ রয়েছে যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে চায়। এজন্য আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। এক্ষেত্রে সুরক্ষা নিশ্চিত করা খুবই প্রয়োজন।
এমবি





