ইন্দোনেশিয়ার একটি ফায়ারিং স্কোয়াডে সাত বিদেশীসহ অভিযুক্ত আট মাদক পাচারকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

মধ্যরাতের একটু পর বুধবার প্রথম প্রহরে চার নাইজেরীয়, দুই অস্ট্রেলীয়, এক ব্রাজিলীয় ও এক ইন্দোনেশীয়র মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা থেকে নিজ রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠিয়েছে অস্ট্রেলিয়া, অপরদিকে ক্রুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ব্রাজিল।

রায় ঘোষণার পর থেকে পাঁচ বছর অপেক্ষার পর এদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হল। অভিযুক্তদের ক্ষমা করার জন্য শেষ সময় পর্যন্ত সারা বিশ্ব থেকে আবেদন এলেও সবই প্রত্যাখান করে ইন্দোনেশিয়া। তবে অপ্রত্যাশিতভাবে অভিযুক্তদের মধ্যে থাকা এক ফিলিপিনো নাগরিক রক্ষা পেয়েছেন।

ম্যারি জেন ভেলেসো নামের এই ফিলিপিনো নারী গৃকর্মীর চাকরি নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার এসেছিলেন। কিন্তু ২০১০ সালে ইন্দোনেশিয়ার আসার পর তার স্যুটকেটে আড়াই কেজি হেরোইন পাওয়া যায়। নিজ ব্যাগে হেরোইন রাখার জন্য দুই সন্তানের মা এই নারী তার চাকরি দাতার বিরুদ্ধে অভিযোগে তুলেছেন।

মঙ্গলবার ভেলেসোকে ফিলিপিনো পুলিশের হাতে তুলে দেয় ইন্দোনেশীয় কর্তৃপক্ষ।

অস্ট্রেলিয়া ও ব্রাজিলের সরকার প্রধানরা মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত অভিযুক্তদের মধ্যে নিজ নিজ দেশের নাগরিকদের ক্ষমা করার জন্য ব্যক্তিগতভাবে ইন্দোনেশীয় সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিলেন, কিন্তু তা অগ্রাহ্য করেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উয়িদোদো।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সময় উপস্থিত থাকা ব্রাজিলীয় অভিযুক্তের ধর্মীয় কাউন্সেলর চার্লি বুরোউস্ জানিয়েছেন, গুলি করার আগে চোখ বাঁধার কথা থাকলেও অভিযুক্ত আটজনই চোখ বাঁধতে অস্বীকার করেন।

অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবোট এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, “আমরা ইন্দোনেশিয়ার সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কিন্তু যা করা হয়েছে তাতে আমরা অত্যন্ত মর্মাহত। এটি সাধারণ কোনো ঘটনা নয়।”

এ সময় তিনি জানান, জাকার্তায় নিযুক্ত অস্ট্রেলীয় রাষ্ট্রদূত পল গিবসন চলতি সপ্তাহের শেষে দেশে ফিরে আসবেন।

অস্ট্রেলীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলি বিশপ জানিয়েছেন, ইন্দোনেশিয়ার কাছ থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নিশ্চিত বার্তা পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন তারা।

দাপ্তরিকভাবে কিছু না জানানো হলেও গণমাধ্যমে দেখানো ছবিতে কঠের কফিনসহ লাশবাহী কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্সকে জাভার কিলাক্যাপ বন্দরের দিকে যেতে দেখা গেছে। এই বন্দর দিয়েই বিদেশী নাগরিকদের লাশ তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিন মাসের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ায় নিজেদের দ্বিতীয় নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরে মর্মাহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রাজিল সরকার। অভিযুক্ত নাগরিককে ক্ষমা করতে দেশটির প্রেসিডেন্ট দিলমা রৌসেফ সরাসরি ইন্দোনেশীয় সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছিল।

ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় কী সিদ্ধান্ত নেয়া যায় বিবেচনার পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে মিত্রতা বিবেচনা করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ব্রাজিলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মৃত্যুদণ্ডের নিন্দা জানিয়ে এটি কার্যকর করায় হতাশা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।

এএইচ