বিশাল হৃদয়ের পরিচয় ঘটেছে যৌন নির্যাতনের শিকার সিস্টার নানের। নির্মম যৌন নির্যাতনের পরেও রাণাঘাটের সেই বৃদ্ধা সিস্টারের গলায় ক্ষমার সুর, অধরা আততায়ী। অপরদিকে ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মিছিলে সরব কলকাতার রাজপথ।

ডাকাতি করতে এসে শুক্রবার দুর্বৃত্তরা ৭২ বছরের এই নানের উপর চালিয়েছিল নির্মম যৌন অত্যাচার। নিরাপত্তার কোনও অনুভূতিই আর তার নেই। কিন্তু তার যন্ত্রণা কাতর অশক্ত শরীর। কাঁপা গলায় জানালেন ধর্ষকদের প্রতি কোনও ক্ষোভ, ঘৃণা নেই। রাণাঘাটের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই ৭২ বছর বয়সী সন্ন্যাসিনী জানিয়েছেন "আমার হৃদয় ভেঙে গেছে।"

রোববার গোটা দিনটা যতটুকু কথা বলতে পেরেছেন ততবার তিনি শুধু স্কুল ও স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা প্রকাশ করেছেন। যখন তিনি বলেছেন তার উপর নির্মম যৌন অত্যাচারকারীরা (ধর্ষকদের) মনে মনে তিনি ক্ষমা করে দিয়েছেন তখন চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি তাকে দেখতে আশা শুভানুধ্যায়ীরা।

ওই স্কুলের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, ‘ওনার বিশাল হৃদয়। তাই উনি এই ধরণের কথা বলতে পারছেন। কিন্তু আমরা এই জঘন্যতম ঘটনায় জড়িত প্রত্যেকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।`পুলিশ ৮জনকে আটক করলেও সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে আততায়ীদের কোনও মিলই নেই।

শুক্রবার ভোররাতের ঘটনার আতঙ্ক এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি কনভেন্ট অব জিসাস অ্যান্ড মেরির শিক্ষার্থীরা। ভয়াবহ ঘটনার তিনদিন পর গত রোববার আতঙ্কের ঘোর কাটিয়ে ক্লাসে যোগ দিয়েছে স্কুলের শিক্ষার্থীরা।

স্কুলের সিনিয়র সিস্টারকে গণধর্ষণের মিছিল করেছে তারা। দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে। স্কুলের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সেই মিছিলে পা মেলান অসংখ্য সাধারণ মানুষও।

আটজনকে আটক করা হলেও, তাদের জেরা করে বিশেষ কোনও সূত্র মেলেনি। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চারজনের ছবি পাওয়া গেছে। তবে বাকিদের ছবি না মেলায় তৈরি করা হচ্ছে স্কেচ।

সিসিটিভির ফুটেজই বলে দিচ্ছে, রাত দেড়টা থেকে টানা তিন,সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে অবাধে স্কুলে দাপিয়ে বেড়িয়েছে দুষ্কৃতীকারীরা।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিসের হাতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসছে। কয়েক মাস আগে স্কুলের প্রিন্সিপালের দায়িত্বে আসেন মেরি পল। তিনি নিরাপত্তার বিষয়ে বেশ কিছু কড়া পদক্ষেপ নেন। স্কুলে সিসিটিভি বসে। সরানো হয় স্কুলের নিরাপত্তা কর্মী স্বপনকে। এরপর বেশ কয়েকবার স্কুলে এসেছিল স্বপন। শুক্রবার রাতের ঘটনায়, তার কোনও ভূমিকা রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

স্কুলে কয়েকদিন আগে মেরামতির কাজ হয়। এই চারজনের মধ্যে কেউ নির্মাণকর্মী কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কথা বলছেন স্কুলের কর্মীদের সঙ্গেও। আপাতত এই দুটো সূত্রের ওপর নির্ভর করেই চলছে ধর্ষকদের খোঁজার অনুসন্ধান।

এমকে