শ্রীলঙ্কায় ২৬ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধের শেষদিকে ক্লাস্টার বোমা ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। শ্রীলঙ্কার সেনাবাহিনী সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে এই বোমা ব্যবহার করেছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

২০০৮-এর শেষ দিক থেকে ২০০৯ সালের প্রথম দিক পর্যন্ত শেষ দফার যুদ্ধ হয়। যে অঞ্চলে ক্লাস্টার বোমার নমুনা পাওয়া গেছে, যুদ্ধের সময় তা ছিল সরকার-ঘোষিত ‘গোলাগুলিমুক্ত এলাকা’। মাইন অপসারণের কাজ করা সংস্থা হালো ট্রাস্টের এক সাবেক কর্মী ক্লাস্টার বোমার নমুনা পাওয়ার কথা স্বীকার ও এ-সংক্রান্ত চিত্র গার্ডিয়ানকে সরবরাহ করেন। যে এলাকায় নমুনা পাওয়া গেছে, সেখানে সে সময় প্রায় তিন লাখ মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল।

গৃহযুদ্ধে ক্লাস্টার বোমা ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়ার ঘটনায় শ্রীলঙ্কার ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী মাইথ্রিপালা সিরিসেনার জন্য বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা

১৯৮৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হয় শ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধ। বিচ্ছিন্নতাবাদী লিবারেশন টাইগার্স অব তামিল ইলমের (এলটিটিই) বিরুদ্ধে দেশটির সেনাবাহিনী এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। শ্রীলঙ্কার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি স্বাধীন তামিল রাষ্ট্র গঠনের জন্যই এ লড়াই চালায় এলটিটিই। এ যুদ্ধে এক লাখেরও বেশি মানুষের জীবনহানি ঘটে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ নিহত হয় যুদ্ধের শেষ দিকে।

হালো ট্রাস্ট বিশ্বের সবচেয়ে বড় মাইন অপসারণকারী সংস্থা। তারা কাজের সময় একাধিক এলাকা থেকে ক্লাস্টার বোমার উপাদানের নমুনা পায়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের একজন জ্যেষ্ঠ অস্ত্র বিশেষজ্ঞ শ্রীলঙ্কায় পাওয়া নমুনা পরীক্ষা করে দেখেন। তিনি এসব নমুনাকে রাশিয়ায় তৈরি ক্লাস্টার বোমার অবশেষ ও অবিস্ফোরিত বোমা বলে চিহ্নিত করেন।

গৃহযুদ্ধে ক্লাস্টার বোমা ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়ার ঘটনায় শ্রীলঙ্কার ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী মাইথ্রিপালা সিরিসেনার জন্য বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। কারণ, সিরিসেনার মন্ত্রিসভার অনেক সদস্যই সে সময় মন্ত্রী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য শরৎ ফনসেকা। তিনি ছিলেন সেনাপ্রধান।

জেড