ভারতের প্রায় সব প্রধান শ্রমিক সংগঠন একযোগে ধর্মঘটের ডাক দিয়ে আজ শুক্রবার সারা দেশ অচল করে দেয়ার কর্মসূচি দিয়েছে। যার কারণে চারদিকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। যেকোন সময় পরিস্থিতি খারাপের দিকে যেতে পারে বলে জানায় স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম।
ট্রেড ইউনিয়ন নেতারা দাবি করছেন, বেতন-ভাতা বাড়ানো ও শ্রমিক অধিকারের দাবিতে ১৫ কোটিরও বেশি শ্রমিক-কর্মচারী এই ধর্মঘটে অংশ নেবেন এবং ব্যাংকিং, কয়লা, পরিবহন-খাতসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল কাল পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।
সোয়া দু’বছর আগে ক্ষমতায় আসা নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য অর্থনৈতিক খাতে এত বড় চ্যালেঞ্জ আগে আসেনি এবং ধর্মঘটের ঠিক আগে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বাড়ানো কিংবা বোনাস দেয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেও সরকার এই ‘ভারত বন্ধে’র ডাক ঠেকাতে পারেনি।
নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার একতরফাভাবে শ্রম-আইনে সংস্কার চালাচ্ছে ও শ্রমিকদের সুবিধে ছাঁটাই করে চলেছে, এই অভিযোগে আগামীকাল ২ সেপ্টেম্বর চব্বিশ ঘণ্টার ‘ভারত বন্ধে’ সামিল হচ্ছে দেশের সকল প্রধান দশটি ট্রেড ইউনিয়ন।
গত বছরও ঠিক একই তারিখেই ধর্মঘট ডেকেছিলেন তারা, কিন্তু এবারের ভারত বন্ধ ধারে ও ভারে আরো বেশি প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন ট্রেড ইউনিয়নগুলোর যৌথ প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক তপন সেন।
বামপন্থী শ্রমিক সংগঠন সিটুর প্রেসিডেন্ট এ কে পদ্মনাভনও জানাচ্ছেন, দেশে যে স্বীকৃত বারোটি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন রয়েছে, তার মধ্যে দশটি মিলেই এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।
শাসক দল বিজেপির সমর্থক ট্রেড ইউনিয়ন ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘ বা বিএমএস-ও এতে সামিল ছিল, কিন্তু তারা শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে গিয়েছে। তারপরেও অবশ্য ধর্মঘট সর্বাত্মক হবে বলেই দাবি শ্রমিক নেতা ও বামপন্থী পার্লামেন্টারিয়ান তপন সেনের।
তিনি বলছেন, কোলিয়ারি, ব্যাংকিং বা টেলিকম খাতে ব্যাপক ধর্মঘট হবে বলে তারা নিশ্চিত।
দেশে আর্থিক সংস্কারের প্রক্রিয়ায় এই হরতাল বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে, এই আশঙ্কায় ভারত বন্ধ ঠেকানোর জন্য শেষ মুহূর্তেও চেষ্টা চালিয়ে গেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ধর্মঘট শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য বাড়তি সুযোগ সুবিধা ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি।
জেটলি জানান, ‘শ্রমমন্ত্রীর নেতৃত্বে অ্যাডভাইজরি বোর্ড যে সুপারিশ করেছিল, তা মেনে নিয়ে সরকার শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি রোজ ৩৫০ রুপি নির্ধারণ করছে। তা ছাড়া কেন্দ্রীয় সরকারের সব নিম্ন বেতনের কর্মীদের গত দু’বছরের বকেয়া বোনাসও অবিলম্বে মিটিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
কিন্তু এত কিছুর পরও কেবল বিএমএস ছাড়া আর কাউকেই ধর্মঘটের পথ থেকে সরকার সরিয়ে আনতে পারেনি। ফলে আজ ভারতের প্রায় সব কয়লাখনি বা ব্যাংক বন্ধ থাকবে, কারখানার গেট খুলবে না গুরগাঁও বা চেন্নাইয়ের শিল্পাঞ্চলে।
জেড





