নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা বিমান দুর্ঘটনায় আহত মেহেদি হাসান, কামরুন্নাহার স্বর্ণা এবং আলিমুন্নাহার এ্যানিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

আজ (শুক্রবার) বিকাল ৩টা ৩৩ মিনিটে বিজি-০০৭২ ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

তাদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়। আহত ওই তিনজন হলেন- মেহেদী হাসান, তার স্ত্রী সাইদা কামরুন নাহার স্বর্ণা ও মেহেদী হাসানের ফুফাতো ভাইয়ের স্ত্রী আলমুন নাহার অ্যানি। তারা কাঠমান্ডু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। বিমান দুর্ঘটনায় আলমুন নাহার অ্যানির স্বামী এফএইচ প্রিয়ক ও সন্তান তামারার প্রিয়ক মারা গেছে।

দেশে ফেরার পর বিকেল ৫টার দিকে তাদেরকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে নিয়ে যাওয়া হয়।

এর আগে নেপালের চিকিৎসকদের পরার্মশ অনুযায়ী আজ (১৬ মার্চ) স্থানীয় সময় বেলা দেড়টার দিকে তারা বাংলাদেশের উদ্দেশে কাঠমান্ডু ছেড়েছেন। এ নিয়ে ওই দুর্ঘটনায় আহত বাংলাদেশি ১০ যাত্রীর মধ্যে ৫ জন কাঠমান্ডু ছাড়লেন।

আহত যাত্রী রিজওয়ানুল হককে সিঙ্গাপুরে ও শাহরিন আহমেদকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। গতকাল (বৃহস্পতিবার) শাহরিন এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন।

এখন আহত যে ৫ জন বাংলাদেশি নেপালে আছেন, তাঁদের মধ্যে চারজন কেএমসিতে ও আরেকজন নরডিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ জানান, নেপালে বিমান দুর্ঘটনার নিহতদের ময়নাতদন্ত বিকাল ৫টার মধ্যে শেষ হবে। এছাড়া রোববারের (১৮ মার্চ) মধ্যে লাশ শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলেও তিনি জানান।

উল্লেখ্য, সোমবার (১২ মার্চ) ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বিমান নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে বিধ্বস্ত হয়। বিমানটিতে মোট ৭১ জন যাত্রী ছিল। দুর্ঘটনায় তাদের ৪৯ জনই নিহত হন। যাত্রীদের মধ্যে ৩৩ জন নেপালের, ৩২ জন বাংলাদেশী, একজন চীনের ও একজন মালদ্বীপের নাগরিক ছিলেন।

এমবি