মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর সেদেশের সেনাবাহিনীর চালানো সহিংসতার প্রেক্ষিতে দেশটির স্টেট কাউন্সেলর বা কার্যত সরকারপ্রধান অং সান সু চি’র পদত্যাগ করা উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান জেইদ রা’আদ আল হুসাইন।

আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সূচি সম্পর্কে এমনই মন্তব্য করেন সাবেক এই জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধান।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে তার বিভিন্ন অজুহাত বা এড়িয়ে যাওয়া সত্যিই অনুতাপের বিষয়। একজন নোবেল বিজয়ী ও একটি দেশের স্টেট কাউন্সিলর বা কার্যত সরকার প্রধান হিসেবে রোহিঙ্গা সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর নির্যাতনে অনেক কিছুই করতে পারতেন সু চি। কিন্তু তিনি এই বিষয়ে চুপ ছিলেন। তার চেয়ে বরং পদত্যাগ করা উচিত সেটাই ভালো।

আর এই জন্য তাকে বার্মা সেনাবাহিনীর মুখপাত্র হওয়ারও দরকার নেই বলে রা'আদ আল হুসাইনের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায় বিবিসি।

তিনি আরও বলেন, 'সু চি কিছুই করতে না পারলেও এটাতো বলতে পারতো যে তিনি একজন নামেমাত্র নেতা। যার কারণে তিনি নির্যাতন সম্পর্কে কথা বলার অবস্থানে নেই'।

সদ্য বিদায়ী মানবাধিকার কমিশন প্রধান রা'আদ আল হুসাইন এমনই সময় এ মন্তব্য করেন যার একদিন আগে রোহিঙ্গা বিষয়ে জাতিসংঘের তদন্তে রোহিঙ্গা মুসলমান ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতন প্রমাণিত হয় এবং সেনাবাহিনীকে এর জন্য বিচারের আওতায় নিয়ে আসারও কথা বলা হয়।

উল্লেখ্য, মিয়ানমারে জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে শুধুমাত্র ২০১৭ সালের আগস্ট থেকেই নির্যাতনের শিকার হয়ে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা।

এছাড়া ১৯৭৮ সাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে মিয়ানমারের উগ্র সেনা ও চরমপন্থী বৌদ্ধদের চালানো হত্যাযজ্ঞ ও নির্যাতন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে এসে আর ফেরত যাননি এমন রোহিঙ্গা রয়েছেন আরো প্রায় চার লাখ। সব মিলিয়ে প্রায় এগারো লাখ রোহিঙ্গা বর্তমানে অবস্থান করছেন বাংলাদেশে।

জেড