চীনের এক মহিলা তার বয়ফ্রেন্ডের বিরুদ্ধে সতীত্ব কেড়ে নেয়ার অভিযোগ এনে আদালতে এর ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তার বয়ফ্রেন্ডকে পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে (বাংলাদেশি টাকায় এর পরিমাণ প্রায় তিন লাখ ৮৫ হাজার)। সাংহাই মিডিয়ার বরাত দিয়ে বুধবার এ খবর জানিয়েছে এএফপি।

চেন নামের ওই মহিলা অভিযোগ করেন, তার বয়ফ্রেন্ড লি তাকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্ক তৈরি করে। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কও তৈরি হয়। কিন্তু এক পর্যায়ে লি হঠাৎ করেই যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরবর্তীতে চেন জানতে পারেন যে তার বয়ফ্রেন্ড বিবাহিত। এরপরই তিনি আদালতে এ অভিযোগ আনেন।

সাংহাইয়ের পুডং নিউ এরিয়া পিপল'স আদালত ক্ষতিপূরণের এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, চেন ও লি-য়ের মধ্যে ২০০৯ সাল থেকেই সম্পর্ক ছিল। সম্পর্কের শুরুটা ছিল অনলাইনে অর্থ্যাৎ ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তবে, তারা সরাসরি ডেটিংয়ে যাওয়া শুরু করেন ২০১৩ সাল থেকে। এক পর্যায়ে তারা সিঙ্গাপুরে বেড়াতে যান। সেখানেই তাদের মধ্যে প্রথম শারীরিক সম্পর্ক ঘটে।

এরপর দেশে ফিরে হঠাৎ করেই যোগাযোগ বন্ধ করে দেন লি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে লিয়ের বাড়িতে ছুটে যান চেন। চেন তখনই জানতে পারেন যে তার বয়ফ্রেন্ড লি বিবাহিত। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন।

চেন তার সতীত্ব নষ্ট ও স্বাস্থ্যের ক্ষতির জন্য ৮১ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। এ ছাড়া চিকিৎসার জন্য আরও অতিরিক্ত ২৫০ ডলার দাবি করেন।

আদালত চেনের এই ক্ষতিপূরণের দাবিকে অতিরিক্ত বলে বিবেচনা করে। তবে, তার সতীত্বের অধিকার রয়েছে, এই সিদ্ধান্তকে বিবেচনায় নিয়ে ক্ষতিপূরণের রায় দেয় আদালত। আদালত এ ব্যাপারে বলেছে, কোন মহিলার সতীত্ব রক্ষার নৈতিক অধিকার রয়েছে; রয়েছে তার জৈবিক স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও যৌন শুদ্ধিতা।

আদালত আরও বলেছে, কোন মহিলার সতীত্ব নষ্ট করা মানে তার শারীরিক, স্বাস্থ্যগত, স্বাধীনতা ও সুনামের ক্ষতি করা। তাই এর ক্ষতিপূরণ হওয়া উচিত। কিন্তু সতীত্ব নষ্টের ক্ষতিপূরণ ৫০০০ ডলার কীভাবে নির্ধারণ করা হলো তা সে ব্যাপারে ব্যাখ্যা দেয়নি আদালত।

রায় ঘোষণার সময় আদালতে বিবাদী প্রেমিক লি উপস্থিত ছিলেন না। তবে, তার পক্ষে আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: এএফপি

ঢাকা, ১৮ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএমএ