এর আগে সোমবার বাংলাদেশে শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেন দীনেশ ত্রিবেদী। ওই দিন দুপুরে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। এর আগে রোববার পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন ভারতীয় হাইকমিশনার।
দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় দেড় মাস পর সোমবারই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নানা টানাপোড়েনের মধ্যেই তার এ ধারাবাহিক বৈঠক বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
সম্প্রতি ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়কে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টিও দুই দেশের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠকের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে দিল্লির প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ফেরত দেওয়ার বিষয়েও ভারতের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সহায়ক পরিবেশ তৈরির বিষয়টিও ভারতীয় হাইকমিশনারের কাছে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।
এদিকে আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণ নিয়েও আলোচনা চলছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ বিষয়ে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তবে প্রধানমন্ত্রী ওই সম্মেলনে অংশ নেবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি বাংলাদেশ সরকার।
মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পৃথকভাবে দ্বিপাক্ষিক সফর এবং দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
এর আগে সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে ইতিবাচক আশাবাদ ব্যক্ত করেন দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক আরও ভালো হবে বলে তিনি আশা করছেন।
সাক্ষাৎকে ‘খুবই ভালো আলোচনা’ হিসেবে উল্লেখ করে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, দুই দেশের মধ্যে আমন্ত্রণ আগে থেকেই রয়েছে। ভারতের জনগণ ও প্রধানমন্ত্রী সামনের দিকে তাকাতে চান এবং ভারত ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দুই দেশের নেতারা একসঙ্গে বসে আলোচনা করলে বিভিন্ন ইস্যু থাকাটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশের যেমন নিজস্ব ইস্যু রয়েছে, ভারতেরও রয়েছে। তবে দুই দেশের মানুষের প্রত্যাশা একটাই—ভালো সম্পর্ক।
দীনেশ ত্রিবেদী গত ২৫ জুন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেন। এরপর গত ২৯ জুলাই তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
গত এপ্রিলে ভারত সরকার ঢাকায় তাদের ১৬তম হাইকমিশনার হিসেবে সাবেক রেলমন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদীকে নিয়োগ দেয়। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো রাজনীতিবিদকে বাংলাদেশে হাইকমিশনার হিসেবে পাঠিয়েছে ভারত।
নতুন দায়িত্ব নিতে গত ৫ জুন পশ্চিমবঙ্গ থেকে স্থলসীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তার তৎপরতা নজর কাড়ছে।
তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর দিল্লিতে মোদির সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর সাক্ষাৎ এবং একই সময়ে বাংলাদেশকে দ্বিপাক্ষিক সফর ও ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের পরবর্তী গতিপথ নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে।
এমএম