সোমবার (১০ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, জালিয়াতি, সহিংসতায় উসকানি, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে বেশিরভাগ ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সংঘাতের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ব্যাপকহারে ভিসা বাতিলের এই প্রক্রিয়া গত বছর ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর শুরু হওয়া অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযানেরই অংশ। এর মাধ্যমে বৈধ ভিসাধারীসহ নজিরবিহীনসংখ্যক মানুষকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, ধারাবাহিক যাচাই-বাছাইয়ের ফল হিসেবে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো, ভিসাধারীরা যেন ভিসার নির্ধারিত শর্ত মেনে চলেন এবং তাদের কর্মকাণ্ডের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে না পড়ে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলা, মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি এবং মাদকসংক্রান্ত অপরাধ ভিসা বাতিলের উল্লেখযোগ্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে।

এ ছাড়া উত্তর আফ্রিকার একটি মার্কিন দূতাবাস ‘বার্থ ট্যুরিজম’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ১০০টির বেশি দম্পতির ভিসা বাতিল করেছে। এসব দম্পতি সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, যাতে তাদের সন্তানরা জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পেতে পারে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, জাতীয় নিরাপত্তা বা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে- এমন বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত ও তদন্তের কাজ ট্রাম্প প্রশাসন অব্যাহত রাখবে।

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, মার্কিন ভিসা কোনো নাগরিকের অধিকার নয়; এটি একটি বিশেষ সুবিধা। কেউ এই সুবিধার অপব্যবহার করলে তার ভিসা বাতিলসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে গত জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, তারা এক লাখেরও বেশি ভিসা বাতিল করেছে। ওই সময়ের হিসাব অনুযায়ী, সেটিই ছিল ভিসা বাতিলের ক্ষেত্রে একটি রেকর্ড।

সূত্র: আল জাজিরা

এনএইচ