তুরস্কে রোববার প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট পদে সরাসরি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে।

দেশটির জাতীয় দৈনিক টুডেস জামান জানায়, অর্ধেকেরও বেশি ভোট গণণা করা হয়েছে। ফলাফলে এগিয়ে আছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তায়েপ এরদোগান।  তার নিকটতমপ্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আছেন ইসলামিক সহযোগীতা সংস্থার (ওআইসি) সাবেক মহাসচিব একমেলুদ্দিন এহসানগুল।

তুরস্কের মোট জনসংখ্যা ৭ কোটি ৬০ লাখ। এদের মধ্যে ভোটার রয়েছে ৫ কোটি ৩ লাখ। স্থানীয় সময় সকাল আটটা থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ করা হয়।

২০০৭ সালে দেশটির সংবিধান সংশোধন করা হয়। সংশোধনের পর সাংবিধান অনুসারে তুরস্কের জনগণ প্রথমবারের মতো সরাসরি ভোটের মাধ্যমে তাদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করতে যাচ্ছে।

এক জরিপে দেখা গেছে, নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তায়েপ এরদোগান ৫৫.১% ভোট পাবেন। আর একমেলুদ্দিন এহসানগুল ৩৩% এবং সেলাহাতিন ডেমিরতাস ১১.৬% ভোট পেতে যাচ্ছেন।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে হলে একজন প্রার্থীকে অবশ্যই ৫০%-এর বেশি ভোট পেতে হবে। ৫০% এর কম ভোট পেলে ২৪ আগস্ট শীর্ষ দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে আবারো ভোট হবে।

আল-জাজিরা'র খবরে বলা হয়, নির্বাচনী প্রচারণার সময় এরদোগান অবকাঠামো উন্নয়ন, পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং প্রেসিডেন্ট পদকে কার্যকর করার বিষয়ে কথা বলেছেন। তুরস্কে প্রেসিডেন্ট পদটি মূলত প্রতিকী।

প্রেসিডেন্ট পদে এরদোগানের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন একমেলুদ্দিন এহসানগুল এবং সেলাহাতিন ডেমিরতাস।

রক্ষণশীল পণ্ডিত ও কূটনীতিক একমেলুদ্দিন এহসানগুল ইসলামিক সহযোগীতা সংস্থার (ওআইসি) মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নির্বাচনে তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে দেশের দুই প্রধান বিরোধী দল। দল দু'টি হলো বামপন্থী রিপাবলিকান পিপল'স পার্টি (সিএইচপি) এবং ন্যাশনালিস্ট মুভমেন্ট পার্টি (এমএইচপি)। আল-জাজিরার খবরে বলা হয়, একমেলুদ্দিন এহসানগুল তুরস্কে একটি অপরিচিত মুখ।

নির্বাচনী প্রচারণায় একমেলুদ্দিন এহসানগুল 'একতা' ও 'নিরপেক্ষতা'র প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন।

অপর প্রার্থী সেলাহাতিন ডেমিরতাস তুরস্কের সংখ্যালঘু কুর্দি সম্প্রদায়ের একজন শীর্ষ নেতা। সংখ্যালঘুদের অধিকারের বিষয়ে সচেতন পিপল'স ডেমোক্রেসি পার্টি (এইচডিপি) তাকে সমর্থন দিচ্ছে। তুরস্কের কুর্দি সম্প্রদায়ের লোকজন পিপল'স ডেমোক্রেসি পার্টি (এইচডিপি) প্রাথমিকভাবে সমর্থন করে। সূত্র: আল-জাজিরা।
ঢাকা, ১০ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, টিআই।