গোলযোগপূর্ণ ইয়েমেনে শুক্রবার দুটি মসজিদে তিনটি আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো হয়েছে। জুম্মার নামাজের সময় চালানো এই দুটি হামলায় অন্তত ৫৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন দুই শতাধিক। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

হামলা তিনটি চালানো হয়েছে রাজধানী সানার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত দুটি মসজিদে। বদর ও আল-হাশুশ নামের মসজিদ দুটি শিয়া মিলিশিয়া জাইদি শিয়া হুথিদের সমর্থকরা ব্যবহার করে বলে জানা গেছে। এই মিলিশিয়ারাই এখন রাজধানী সানা নিয়ন্ত্রণ করছে।

হামলার দায়-দায়িত্ব এখনো পর্যন্ত কেউ স্বীকার করেনি। তবে, ধারণা করা হচ্ছে আল কায়েদা এই হামলা চালিয়েছে। কেননা, দেশটিতে শিয়া হুথি মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে আল কায়েদা দীর্ঘদিন ধরে লড়ে আসছে।

দক্ষিণাঞ্চলীয় বৃহত্তম শহর এডেনে দুটি গ্রুপের সংঘর্ষের একদিন পর রাজধানী সানায় এ হামলার ঘটনা ঘটলো। গতকাল বৃহস্পতিবার এডেনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট আব্দরাব্বু মানসুর হাদী ও ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর শিয়া হুথি সমর্থিত পাইলটরা যুদ্ধবিমান নিয়ে প্রেসিডেন্ট ভবনের দিকে মহড়া দেয়।

গত মাসে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে প্রেসিডেন্ট হাদীকে গৃহবন্দী করে রাখে। সানা দখল করে একটি 'প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল' গঠন করে এর ওপর দেশ পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করে হুথিরা। এই কাউন্সিল একটি নতুন নির্বাচিত সরকার গঠনের আগ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে বলে ঘোষণা দেয় হুথিরা। পরে গৃহবন্দীত্ব থেকে পালিয়ে এডেনে গিয়ে আশ্রয় নেন প্রেসিডেন্ট। আব্দুরাব্বুই মানসুর হাদীই হলেন বর্তমানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি প্রেসিডেন্ট।

এমএ