২০১১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা এবং ২০১৪ সালে ভারতের লোকসভা ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসের জয়লাভকে নিশ্চিত করতেই ভুঁইফোঁড় অর্থলগ্নিকারী সংস্থা সারদা'র রুপি বেআইনি ভাবে বাংলাদেশের একটি ধর্মীয় মৌলবাদী সংগঠনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করলেন বিজেপি'র মুখপাত্র তথা পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সিদ্ধার্থনাথ সিং।
আজ বিকেলে কলকাতায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে সারদার রুপি বাংলাদেশে পাচারের জন্য মমতাকে সরাসরি আক্রমণ করেন তিনি।
সিদ্ধার্থনাথ সিং বলেন মমতার বিরুদ্ধে সারদা অর্থ পাচার সংক্রান্ত সবখবরই বাংলাদেশের জাতীয় সংবাদপত্রে ফলাও করে ছাপা হয়েছে। সংবাদপত্রে প্রকাশিত সেই খবরের বেশ কিছু কাটিং এদিনের সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরে তিনি বলেন ২০১০ সালে ভারতের রেলমন্ত্রী থাকাকালীনই সারদার সঙ্গে পরিচয় গড়ে ওঠে মমতার। তাঁর আমলেই সারদার অর্থ সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের মৌলবাদী সংগঠনের কাছে পৌঁছে যায়। আর এই কাজে সাহায্য করেছিল তাঁরই দলের সাংসদ আহমেদ হাসান ইমরান।
বজেপি নেতার অভিযোগ নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠন স্টুডেন্টস ইসলামিক মুভমেন্ট অব ইন্ডিয়া (সিমি)-র একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এই ইমরান। ইমরানের সঙ্গে এই অর্থ পাচারের জামাত-ই-ইসলামী নেতা দেলোয়ার হোসেন এবং মীর কাসিম আলি জড়িত আছেন বলে অভিযোগ করেন সিদ্ধার্থনাথ সিং। তাঁর অভিযোগ এই অর্থ পাচারের মধ্যে দিয়ে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের তৃণমূল সরকার সন্ত্রাসী সংগঠন এবং দেশবিরোধী সংগঠনগুলিকে নাশকতা করতে মনোবল জোগাচ্ছে।
পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের কাটিং তুলে ধরে তার অভিযোগ ভোটে মমতা বন্দোপাধ্যায় এবং তার দলকে জেতাতেই সারদার রুপি জামাত-ই-ইসলামকে যোগান দেওয়া হয়েছিল। বিজেপি নেতা বলেন পশ্চিমবঙ্গে ২৭ শতাংশ মুসলিমের বসবাস। নির্বাচনে ওই মুসলিম সমপ্রদায়ের মানুষেরা যাতে মমতার দিক থেকে মুখ ঘুরিয়ে না নেয় সেই কারণেই এই অর্থ পাচার করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ বিজেপি নেতার।
তিনি বলেন দিলি্লতে এনডিএ সরকারের আমলে তহেলকা কেলেঙ্কারি সামনে আসায় নৈতিকতার প্রশ্নে এনডিএ সরকার থেকে ইস্তফা দিয়েছিল মমতা কিন্তু সারদার মতো এতবড় অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনায় তৃণমূলের তাবড় তাবড় নেতাদের নাম জড়িয়ে পড়ার পরও কেন তিনি এখনও পদ অাঁকড়ে ধরে আছেন।
পত্রিকায় প্রকাশিত সারদা'র খবর নিয়ে সিদ্ধার্থনাথ সিং-এর প্রশ্ন মমতার বিরুদ্ধে এত বড় অভিযোগ ওঠার পরেও তিনি কেন চুপ করে বসে আছেন? কেন তিনি মানহানির মামলা দায়ের করছেন না? তাঁর অভিযোগ মমতার নীরবতাই প্রমাণ করে দিচ্ছে যে সারদার রুপি পাচারের ঘটনায় কিছু একটা ঘটেছিল (ডাল মে কুছ কালা হ্যায়)? এই ঘটনার দায় নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের পদত্যাগ করা উচিত বলেও মনে করেন এই বিজেপি নেতা।
পরে তৃণমূল ভবনে সিদ্ধার্থনাথ সিং-এর ওই অভিযোগ খন্ডন করতে গিয়ে বিজেপি কে উদ্যেশ্য করে তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানান 'উপনির্বাচনের আগে এরকম নোংরা খেলায় মাতবেন না। একসময় পার্থ বাবুর প্রশ্ন তাদের (বিজেপি) হাতেই কেন্দ্রের সরকার, তাহলে কাগজের কাটিং দেখাতে হচ্ছে কেন?
কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই এবং ইডি-রও ধারনা সারদা বাজার থেকে যে রুপি তুলেছিল তার একটা অংশ বাংলাদেশে গিয়ে থাকতে পারে। সেবি ও কোম্পানি আইনের বেশ কিছু ধারা ভঙ্গ করে সারদা বেআইনিভাবে রুপি তুলেছে এবং তা পাচার করা হয়েছে বাংলাদেশে। আর এই রুপি পাচারের সঙ্গে যুক্ত তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা তথা রাজ্যসভার সাংসদ আহমেদ হাসান ইমরান। বস্তায় ভরে কলকাতার সারদার মিডল্যান্ড পার্কের অফিস থেকে ওই রুপি অ্যম্বুলেন্সে করে যেত সীমান্তে তারপর সীমান্ত লাগোয়া বিদেশি মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র থেকে বিনিময় করে সীমান্ত পার করা হতো। সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেন নিজেও জেরায় সিবিআই-কে এই তথ্য জানিয়েছে। ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত তৃণমূলের সাংসদ ইমরানকে কয়েক দফায় আদালদা আলাদা জেরা করেছে সিবিআই ও ইডি।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন
ঢাকা, ১১ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেএ





