ইরাকে সশস্ত্র যোদ্ধা গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)-কে মোকাবেলার ক্ষেত্রে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফকে উদ্ধৃত করে প্রচারিত একটি খবর নাকচ করে দিয়েছে তেহরান। ওই খবরে দাবি করা হয়েছিল, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার বিনিময়ে ইরাকের ব্যাপারে ওয়াশিংটনকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে ইরান।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারজিয়ে আফখাম বলেছেন, ইরাকে তৎপর সন্ত্রাসীদের মোকাবেলার জন্য ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সহযোগিতার খবর ভিত্তিহীন।

তিনি আরো বলেছেন, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, আরাকের পরমাণু স্থাপনার ব্যাপারে ইরান কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে তাই পাশ্চাত্যেরও উচিত এর বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া। আসলে পশ্চিমা গণমাধ্যম ইরানের ‘আরাক’ পরমাণু স্থাপনার সঙ্গে 'ইরাক' শব্দটিকে গুলিয়ে ফেলেছে অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল অনুবাদ করেছে। ফার্সি ভাষায় ‘ইরাক’ ও ‘আরাক’ শব্দ দু'টি প্রায় একইভাবে উচ্চারণ করা হয়।

ইরানে ইসলামী বিপ্লব বিজয়ের ৩৫ বছর পর এই প্রথম আমেরিকা ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা পরমাণু বিষয়ে আলোচনা করেছেন। অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে বলা যায়, আমেরিকা প্রতিশ্রুতি রক্ষায় মোটেও আন্তরিক নয় এবং ওয়াশিংটন কেবল নিজ স্বার্থের বাইরে আর কিছু চিন্তা করে না। সম্প্রতি ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাতে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা পরমাণু বিষয়ে ওয়াশিংটন-তেহরান দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ব্যাপারে বলেছেন, আমেরিকার শত্রুতার মাত্রা তো কমেনি বরং নিষেধাজ্ঞার পরিধি আরো বাড়িয়েছে।

ইরানের ব্যাপারে মার্কিন বিদ্বেষী নীতির আলোকে বলা যায়, সন্ত্রাসবাদের মোকাবেলায় ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সহযোগিতা অযৌক্তিক ও অসম্ভব ব্যাপার। এ কারণে ইরান ইরাকে তৎপর আইএস-এর মোকাবেলায় আমেরিকার সঙ্গে সহযোগিতার গুজবকে উড়িয়ে দিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে আমেরিকা ও ইরানের দৃষ্টিভঙ্গিতে অনেক পার্থক্য রয়েছে। সন্ত্রাসবাদের স্বীকার ইরান সবসময়ই যে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নিন্দা করে আসছে এবং এ অশুভ শক্তির মোকাবেলায় ইরান শক্ত অবস্থান নিয়েছে।

২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার পর থেকে আমেরিকা সন্ত্রাসবাদ ইস্যুকে সবসময়ই নিজের স্বার্থে ও অশুভ লক্ষ্য বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগানোর চেষ্টা চালিয়ে এসেছে। ওই ঘটনার পর সন্ত্রাসবাদ দমনের অজুহাতে আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক সেনা সমাবেশ ঘটিয়েছিল। আফগানিস্তানে এখনো মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।

সন্ত্রাসবাদ দমনের অজুহাতে আমেরিকা এ অঞ্চলে সেনা মোতায়েন করলেও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কোনো উন্নতি তো হয়নি বরং সন্ত্রাসবাদের আরো বিস্তার ঘটেছে। যেসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর আবির্ভাব ঘটেছে তারা শুধু মধ্যপ্রাচ্যসহ বরং সারা বিশ্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০০১ সালে সন্ত্রাসীদের তৎপরতা দুই তিনটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও সন্ত্রাসবাদ বিষয়ে মার্কিন দ্বিমুখী নীতির কারণে সেই সন্ত্রাস বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে ইউরোপ ও আমেরিকার জন্য বিরাট হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতন ঘটানো এবং ইরাকে নৈরাজ্য সৃষ্টির জন্য পাশ্চাত্য উগ্রপন্থীদের ব্যবহার করেছে। কিন্তু তাদের দৌরাত্ম্য এতটাই বেড়েছে যে তারা মার্কিন সাংবাদিককেও হত্যা করতে ছাড়েনি।

ঢাকা, ২৩ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএমএ