বিশ্বজুড়ে একের পর এক ঘটে চলেছে বিমান দুর্ঘটনা। সোমবার পশ্চিমবঙ্গের জামশেদপুরের আকাশে ঘটতে যাচ্ছিল এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা। দুটি যাত্রীবাহী বিমান মুখোমুখি সংঘর্ষে পড়তে যাচ্ছিল। তবে, অল্পের জন্যে রক্ষা হয়েছে। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে কলকাতার এই সময় অনলাইন পত্রিকা মঙ্গলবার এ খবর জানিয়েছে।
বিমান দুটির একটি ছিল সৌদি আরবের রিয়াদগামী, আরেকটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাগামী। বিমান দু'টি জামশেদপুরের ওপরে থাকলেও, তা কলকাতা এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের (এটিসি) আওতাধীন ছিল।
সোমবার সকাল সাড়ে আটটায় জামশেদপুরের আকাশে ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩২ হাজার ফুট উপরে প্রায় মুখোমুখি হতে চলেছে সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সের হংকং-রিয়াদ ও ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের মাসকট-ঢাকাগামী দু'টি বিমান। সঙ্গে সঙ্গে তৎপরতা শুরু হয়ে যায় কলকাতার দমদম বিমানবন্দরে৷
কলকাতার এয়ার কন্ট্রোল রুম (এটিসি) থেকে তখন বিমান দু'টির পাইলটদের সমানে সতর্ক করা হচ্ছিল। পরে জানা গেছে, এই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল তৃতীয় একটি বিমানকে কেন্দ্র করে৷ এমিরেটাস বিমান সংস্থার ওই যাত্রীবাহী বিমানটি দুবাই থেকে ঢাকা যাচ্ছিল৷ যে সময় সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়, তখন ওই বিমানটি বাংলাদেশের রাজশাহীর আকাশে, ৩১ হাজার ফুট উচ্চতায় ছিল৷
বাংলাদেশের আকাশে থাকলেও, বিমানটি তখনও পর্যন্ত ছিল কলকাতা এটিসির আওতায়৷ কিন্ত্ত গন্তব্যের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় কলকাতা এটিসি থেকে বিমানটিকে ২৯ হাজার ফুট উচ্চতায় নেমে আসার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে কর্তব্যরত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন৷ তা না হলে সেটি ঢাকা এটিসির আওতায় চলে যেত৷
ধোঁয়াশা তৈরি হচ্ছে এখানেই৷ কলকাতা বিমানবন্দর সূত্রের দাবি, যে সময় দুবাই-ঢাকা বিমানটিকে তারা বাংলাদেশ এটিসির আওতায় আনার জন্য নেমে আসার নির্দেশ দেন, তখনই নাকি ভুলবশত অথবা পাইলটের অসাবধানতায় ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের মাসকট-ঢাকাগামী বিমানটি তার ৩৩ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে ৩২ হাজার ফুটে নেমে আসে৷ যার ফলে উল্টোদিক থেকে আসা সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সের বিমানটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়৷ কারণ, রিয়াদগামী সেই বিমানটি ছিল ৩২ হাজার ফুট উচ্চতায়৷ তখন দু'টি বিমানের দূরত্ব এক হাজার ফুটেরও কম৷ ফলে দু'টি বিমানেরই পাইলটের ককপিটে বেজে ওঠে বিপদ সংকেত ধ্বনি৷ কলকাতা এটিসির রাডারেও ধরা পড়ে সেই ছবি৷ তীব্র স্বরে বাজতে থাকে অ্যালার্ম৷
ভুল কোথায় হয়েছে, তা অবশ্য জানা যাচ্ছে না৷ পাইলটের ভুল না এটিসি থেকে ভুল বার্তা গেছে, তা জানতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে ডাইরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন ও কলকাতা এটিসি৷
দমদম বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তা বলেন, "আমাদের প্রাথমিক অনুমান যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, মানুষের ভুলেই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।" তদন্তের স্বার্থে ওই সময়ের পাইলট-এটিসি বার্তালাপের রেকর্ডিং শোনা হবে এবং রাডারের ছবিও খতিয়ে দেখা হবে বলে বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে। সূত্র: এই সময়
ঢাকা, ১২ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএমএ





