মার্কিন সেনাপ্রধানের ইমেইল ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সাইবার হামলা করেছে রাশিয়ার হ্যাকাররা। গত মাসের শেষ দিকে চালানো এ সাইবার হামলায় আমেরিকার প্রায় ৪,০০০ সামরিক ও বেসামরিক কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন নিউজ চ্যানেল এনবিসি এ খবর দিয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, অতি দক্ষ এ সাইবার হামলা ২৫ জুলাই চালানো হয়। অবশ্য মার্কিন সেনাপ্রধানের যে ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এ হামলা চালানো হয়েছে তা গোপনীয় ইমেইল আদান-প্রদানের কাজে ব্যবহৃত হয় না বলে খবরে দাবি করা হয়েছে। সাইবার হামলার কারণে এ ইমেইল ব্যবস্থা ১১ দিন বন্ধ রাখা হয়েছিল।
এ খবরে বলা হয়েছে, সাইবার হামলার ধরণ দেখে বোঝা যাচ্ছে, এর পেছনে কোনো রাষ্ট্র জড়িত রয়েছে। রাশিয়া এ হামলার পেছনে রয়েছে বলে দাবি করে খবরে আরো বলা হয়েছে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সরকার এ হামলার অনুমোদন দিয়েছে কিনা সে বিষয়ে পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যায়নি।
মার্কিন দৈনিক ডেইলি বিস্ট বলেছে, নেটওয়ার্কটিতে ঢোকার জন্য প্রাথমিকভাবে দেখতে বৈধ এমন ইমেইল পাঠায় হ্যাকাররা। আসলে এ সব ইমেইলের মধ্য দিয়ে হ্যাকাররা ম্যালওয়ার বা ভাইরাস পাঠিয়ে নেটওয়ার্কের দখল নিয়েছে বলে দৈনিকটি দাবি করেছে। এ সাইবার হামলার সমন্বয় করার জন্য জটিল সংকেতযুক্ত সামাজিক যোগাযোগ একাউন্ট ব্যবহার করা হয়েছে।
এনবিসি বলেছে, হ্যাকাররা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে। এতে এক মিনিটের মধ্যেই দ্রুত ব্যাপক ডাটা সংগ্রহ করে তা ইন্টারনেটের হাজার হাজার একাউন্টে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
গত মাসেই মার্কিন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, দেশটির দুই কোটি ১০ লাখ সরকারি কর্মী এবং ঠিকাদারসহ অন্যদের তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে হ্যাকাররা। নজিরবিহীন এ সাইবার হামলায় চীন জড়িত বলে এর আগে অভিযোগ করা হয়েছিল।
সম্প্রতি মার্কিন সরকারি মহল নানা সাইবার হামলার শিকার হওয়ার খবর প্রচার করতে শুরু করেছে। এসবের মাধ্যমে মার্কিন যুদ্ধবাজ নীতির বিরোধিতাকারী স্বতন্ত্র কোনো দেশের বিরুদ্ধে পেন্টাগনের নজিরবিহীন ভয়াবহ সাইবার হামলার প্রেক্ষাপট তৈরি করা হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র:আইআরআইবি
জেডআই





