নয় দফা ঢাকা ঘোষণার মাধ্যমে শেষ হয়েছে বাংলাদেশ ও ইন্ডিয়ার সাবেক হাইকমিশনারদের নিয়ে আয়োজিত ‘প্রথম বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া হাইকমিশনারস সামিট-২০১৪’। এর দ্বিতীয় সামিট ২০১৬ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত হবে।

পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসে গড়া সম্পর্কের মাধ্যমে দুই দেশ সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন সাবেক কূটনীতিকরা। শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নয় দফা ঢাকা ঘোষণা পাঠ করেন অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ। এ সময় দুই দেশের এগারজন কূটনীতিক উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে শুক্র ও শনিবার বাংলাদেশ ও ইন্ডিয়ার সাবেক হাইকমিশনারদের এই সম্মিলন অনুষ্ঠিত হয়। ঢাবির আন্তর্জাতিক সর্ম্পক বিভাগ এবং বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

দুই দেশের হাইকমিশনারদের দেওয়া নয় দফা ঢাকা ঘোষণার উল্লেখযোগ্য দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে- পারস্পরিক গণতান্ত্রিক অধিকার ও মূল্যবোধকে সমুন্নত রেখে বাংলাদেশ এবং ভারতের সম্পর্ককে আরও ভাল করা। সামাজিক ও রাজনৈতিক সমতার ভিত্তিতে পারস্পরিক সহযোগিতার খাত সম্প্রসারিত করার মাধ্যমে আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন।

বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে সম্পর্কের নতুন দিগন্ত সূচনা করার আহ্বান জানিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক ইতিবাচকভাবে এগিয়ে নেওয়ার জন্য শিক্ষা, সামাজিক, রাজনৈতিক, সুশীল সমাজ, ছাত্র, গবেষক, মিডিয়াসহ সকলক্ষেত্রের সঙ্গে সম্পৃক্তদের সচেতন অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বানও জানানো হয়েছে।

দুই দেশের বাণিজ্য প্রসারে শুক্লমুক্ত পণ্য সরবরাহ। নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে বোঝাপড়া। নিজ নিজ দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে পারস্পরিক স্বার্থ সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে ঢাকা ঘোষণায়।

একই সঙ্গে আঞ্চলিক এবং উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে আঞ্চলিক সংগঠন সার্ক ও বিমসটেক এর কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।

দুই দেশের সাবেক হাইকমিশনারদের নিয়ে একটি এ্যালামনি সংগঠন গঠন এবং এর ধারাবাহিকতা রক্ষায় আগামী ২০১৬ সালে এই অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় সম্মিলন ভারতে অনুষ্ঠানের ঘোষণাও দেওয়া হয়।

এএইচ