বিশ্বজুড়ে বাড়ছে ক্রমশ সাংবাদিক নির্যাতন। আধিপত্য আর আগ্রাসনের রোষানলে পড়তে হয় সাংবাদিকদের। তারপরেও জীবন বাজী রেখে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে সর্বোচ্চ সততা আর সাহসিকতার জন্য ২০১৮ সালে নিহত সাংবাদিক খাশোগিসহ ৪ সাংবাদিক ও একটি পত্রিকাকে বিশ্ব সেরা ব্যক্তিত্বের তালিকায় স্থান দিয়েছে টাইম ম্যাগাজিন।
মঙ্গলবার 'টুডে' অনুষ্ঠানে তারা এই ঘোষণা দেয় বলে জানায় মার্কিন গণমাধ্যম এনবিসি।
তালিকায় আছেন সৌদি রাজতন্ত্রের রোষানলের স্বীকার সৌদি সাংবাদিক ও সমালোচক জামাল খাশোগি, 'দ্যা ক্যাপিটাল গেজেট' পত্রিকা যেখানে বন্দুকধারীর হামলায় ৫ জন নিহত হয়, ফিলিপাইনের সাংবাদিক মারিয়া রেসা এবং মায়মারের আটক রয়টার্সের দুই সাংবাদিক ওয়া লোন এবং কাইয়াও সো।
বিশেষ করে সাংবাদিকতায় তাদের সৎ সাহস ও দমন পীড়নের মাঝেও নির্যাতনের সঠিক চিত্র মানুষের সামনে তুলে ধরার প্রয়াসের কারণে তাদের এ বছর টাইমের সেরা ব্যক্তিত্বের তালিকায় স্থান দেয়া হয়। টাইমের ভাষায় তাদেরকে 'গার্ডিয়ান' হিসেবে অভিহিত করা হয়।
এ বিষয়ে এডিটার-ইন-চিফ এডওয়ার্ড ফেলসেনথাল বলেন, ২০১৮ সালে এ্ পর্যন্ত প্রায় ৫২ জন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে। যারা সবসময় জীবনের সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করতো। তারা আমাদের সমাজ নির্যাতনের বাস্তব প্রতিচ্ছবি।
তালিকায় থাকা সাংবাদিকরা সরকারিভাবেই অত্যাচারের স্বীকার। শুধু সত্য তুলে ধরার জন্য। এদের মধ্যে ২০১৮ সালে সবচেয়ে আলোচিত সাংবাদিক হত্যা জামাল খাশোগি। যিনি সৌদি সমালোচক, সাংবাদিক এবং ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট।
তুরস্কে অবস্থিত সৌদি কনস্যুলেট ভবনে সৌদি সরকারের নির্দেশে মোতাবেক তাকে হত্যা করা হয়। যার এখনো মূল্য দিয়ে যা্চ্ছে সৌদি সরকার এবং সারা বিশ্বে সৌদি আরব নিন্দিত হয়।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিএইএ জানিয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নির্দেশে খাসোগিকে হত্যা করা হয়েছে বলে তারা 'নিশ্চিত'। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিআইএ'র সিদ্ধান্তকে নাকচ করে দিয়ে সৌদি বা সালমানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে অস্বীকার করেছেন।
ঠিক একই কারণে সরকারের অত্যাচারের সমালোচক হওয়ায় সম্পূর্ণ রাজনৈতিকভাবে গ্রেফতার করে নির্যাতন করা হচ্ছে ফিলিপাইনের সাংবাদিক মারিয়া রেসাকে। বর্তমানে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তে। যার অনেক স্বৈরাচারী সিদ্ধান্তে অনেক মানুষ জীবন দিতে হয়েছে।
এর পরে হচ্ছে মিয়ানমারের আটক রয়টার্সের দু্ই সাংবাদিক ওয়া লোন এবং কাইয়াও সো। যারা মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলে সরকার, সেনাবাহিনী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠি কর্তৃক রোহিঙ্গা নির্যাতনের ঘটনা সংগ্রহ করতে গিয়ে সরকারের রোষানলে পড়ে। তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয় এবং ব্রিটিন উপনিবেশিক আইনে তাদের বিচার করা হয়।
যার বিপক্ষে বিশ্বের প্রায় সব সাংবাদিক সংগঠন ও মানবাধিকার সংগঠন বিবৃতি দেয়। কিন্তু তার পরেও মিথ্যাচারের মাধ্যমে সাংবাদিকের বিচার করা হয়। উল্লেখ্য, মিয়ানমারে জাতিগত নিধনের স্বীকার হয়ে ২০১৭ সালে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা। এছাড়াও পূর্ব থেকে বাংলাদেশে বসবাস করছে ৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। সব মিলিয়ে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার বসবাস বর্তমানে বাংলাদেশে।
সেরা ব্যক্তিত্বের তালিকায় একটি সংবাদপত্র রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডে অবস্থিত পত্রিকাটির নাম 'দ্যা ক্যাপিটাল গেজেট'। যেখানে ২০১৮ সালের জুন মাসে এক বন্দুকধারীর হামলা চার সাংবাদিক ও এক পত্রিকা সরবরাহকারী মারা যায়। এতে সারা বিশ্ব জুড়ে নিন্দার জড় উঠে।
১৯৭২ সাল থেকে প্রতিবছর টাইম ম্যাগাজিনের শেষ ফিচারে সেরা ব্যাক্তিত্বের তালিকায় কোন গোষ্ঠি বা ব্যাক্তির নাম উল্লেখ থাকে। এ বছরে ব্যক্তিত্বে তালিকায় স্থান পায় সাংবাদিকরা।
উল্লেখ্য, ডোলান্ড ট্রাম্প এ বছরে ব্যাক্তিত্বের তালিকায় রানার-আপ হিসেবে ছিলেন। এর আগে ২০১৬ সালে সেরা ব্যক্তিত্বের তালিকায় স্থান পান তিনি।
জেড





