গাজায় স্থল অভিযান শুরুর চতুর্থতম দিনে রোববার আরও সেনা পাঠিয়েছে ইসরায়েল, আকাশ এবং স্থলভাগে যে ‘যুদ্ধ’ এরই মধ্যে গড়িয়েছে ত্রয়োদশতম দিনে।
ইসরায়েল বলছে, তারা রণক্ষেত্রে আরও সেনা পাঠিয়েছে, বাড়ানো হয়েছে অভিযানের ব্যাপ্তি।
প্রাণক্ষয়ী এ যুদ্ধ থামাতে প্রায় দুই সপ্তাহেও কূটনৈতিক তৎপরতায় কোনো ফল না আসায় বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স গাজা নেতাদের উদ্ধৃত করে বলেছে, আকাশ ও স্থলভাগে ইসরায়েলের আক্রমণ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৩৪৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে ফিলিস্তিনের হামলায় নিহত হয়েছেন পাঁচ সেনা সদস্য এবং দুই জন বেসামরিক নাগরিক।
গাজা অধিবাসীরা জানিয়েছেন, রাতভর ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইসরায়েল সেনারা। উত্তরপূর্ব শেজায়া শহরে ইসরায়েলের ট্যাঙ্ক থেকে নিক্ষেপ করা গোলায়এক ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়েছে। এর পর পরই স্থানীয় বেতার থেকে বেসামরিক লোকজনকে সরে পড়ার আহবান জানানো হয়।

এছাড়া বিমান হামলায় হামাস নেতা খলিলি আল-হায়াসহ তার এক ছেলে, পুত্রবধূ ও দুই শিশুর নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রাফা নগরীতেও চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন ইসরায়েলি হামলায়।
টানা ১০দিন বিমান হামলার পর বৃহস্পতিবার হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজায় আক্রমণ শুরু করে ইসরায়েল।
এদিকে ইসরায়েল সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা গাজা উপত্যকায় নতুন করে আরও সেনা সদস্য পাঠিয়েছে। গাজায় হামাসের সুড়ঙ্গ ও রকেটের মজুদ ধ্বংস করাই এ অভিযানের লক্ষ্য বলে ইসরায়েল বলে আসছে।
তবে ইসরায়েলি হামলায় হতাহতদের মধ্যে বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক।
অন্যদিকে এই প্রাণক্ষয়ী যুদ্ধ থামাতে মিশর, কাতার, ফ্রান্স ও জাতিসংঘ তৎপর হয়ে উঠলেও কার্যত কোনো ফল আসেনি।
হামাস-ইসরায়েলের যুদ্ধ থামাতে এর আগে দুই দফায় উদ্যোগ নিয়েছিল মিশর। এর আগে ২০১২ সালেও দুই বৈরী পক্ষের মধ্যে আট দিনব্যাপী যুদ্ধ হয়। মিশরের সেই সময়কার প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির মধ্যস্ততায় দুই পক্ষ তখন যুদ্ধবিরতিতে এসেছিল।

তবে শনিবার মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের নতুন করে কোনো যুদ্ধবিরতি উদ্যোগ নেয়ার পরিকল্পনা নেই। চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে জাতিসংঘের মহাসচিব বান-কি মুন ইসরায়েল ও গাজা এলাকায় পরিদর্শনের আসার পরিকল্পনা করছে বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে।
এছাড়া যুদ্ধবিরতির উপায় খুঁজতে কাতার যেতে পারেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। সেখানে কাতারের আমিরের সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলবেন তিনি। কাতারেই নির্বাসনে আছেন হামাস নেতা খালেদ মেশাল। তবে সফরকালে তার সঙ্গে মাহমুদ আব্বাসের বৈঠক হবে কি না তা এখনো জানা যায়নি।
ঢাকা, ২০ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই





