বিভিন্ন অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে একটি মর্মান্তিক ভিডিও ক্লিপ। এতে দেখা যায় এক মা কোনমতে সন্তানকে বাঁচাতে সক্ষম হলেও নিজে সন্তানের চোখের সামনেই চলন্ত সিড়ির (escalator) গভীর গর্তে পড়ে গিয়ে মুহুর্তে হারিয়ে যান। পরে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
পনের সেকেন্ডের ওই ভিডিও ক্লিপটি আজ (সোমবার) ইউটিউবে আপলোড করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রভাবশালী পত্রিকা ডেইলি মিররের প্রতিবেদনে বলা হয়, সিসিটিভিতে ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজটি চীনের জিনহু শাশি অ্যাংলিয়াং ডিপার্টমেন্টাল স্টোর থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে বলে ইউটিউবে আপলোডকারীরা দাবি করেছেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, ওই হতভাগ্য মা ও তার সন্তান চলন্ত সিড়ি দিয়ে উপরে উঠে আসেন এবং সিড়ি বেয়ে ফ্লোরে নামার সময় হঠাৎ ফ্লোরের একটি অংশ ভেঙ্গে পড়ে।
ঘটনাটি ঘটার সাথে সাথে মা টের পান এবং সঙ্গে সঙ্গে নিজের সন্তানকে ধাক্কা দিয়ে নিরাপদ স্থানে পার করিয়ে দেন। কিন্তু সন্তানের জীবন বাঁচাতে পারলেও নিজেকে আর বাঁচাতে পারলেন না তিনি। সন্তানকে নিরাপদে সরাতে গিয়ে মুহুর্ত খানিকের জন্য হয়তোবা স্নেহময়ী মা ভুলে গিয়েছিলেন নিজেকে বাঁচানোর কথা। আর সেটিই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ালো।
চলন্ত সিড়ির সামনের ভাঙা অংশ দিয়ে সিড়ির মেশিনের মধ্যে পড়ে গেলেন মা। ভবনের স্টাফরা সাথে সাথে সেখানে গিয়ে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ততক্ষণে খাদের গভীরে মেশিনের মধ্যে চলে যায় মায়ের দেহখানা।
পাশেই দাঁড়িয়েছিল কিংকর্তবিমূঢ় সন্তানটি। এই মাত্র সেই মায়ের মমতামাখা হাতখানি ধরে পরম আনন্দে সিড়ি বেয়ে উপরে উঠলো, একটু পরেই যে সেই মাকে চিরতরে হারিয়ে ফেলবে এমনটি কল্পনায়ও ছিল না তার। কতকিছু বলার ছিল মাকে! বলা হলো না তার কিছুই! সময় অসময় কত অবুঝ ও অযৌক্তিক আবদার পূরণ করতো মা! কার কাছে এখন আবদার করবে? যখন তখন কাকে জ্বালাতন করবে? সব এখন কেবলই স্মৃতি!
গর্ত দিয়ে নিচে পড়ে যাবার তিন ঘণ্টা পরে ওই মায়ের মৃতদেহটি উদ্ধার করা সম্ভব হয় বলে লাইভলিক.কমের বরাত দিয়ে ডেইলি মিররের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
উল্লেখ্য, ত্রুটিপূর্ণ চলন্ত সিড়ির কারণে মৃত্যুর ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে গতবছর (২০১৪) মালয়েশিয়াতে ৬ বছরের নুরহাদা সোফিয়া নামে এক মেয়ে একটি শপিং সেন্টারে একইভাবে মারা যায়। ওই ঘটনায় সোফিয়া চলন্ত সিড়ি দিয়ে ৫ম তলায় ওঠার পর সেখান থেকে পড়ে যায়।
গতবছর কানাডার বাণিজ্যিক শহর মনট্রেলে একইভাবে এক মায়ের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনায় ওই মায়ের কাপড়ের এক অংশ মেশিনে আটকে যায়। এতে কাপড়ে মায়ের গলায় ফাঁস লাগে।
এর আগে ২০০৩ সালে সেলি বাডউইন নামে নিউইয়র্কের এক অধ্যাপকেরও মৃত্যু হয় চলন্ত সিড়ির দুর্ঘটনায়। রোমের একটি রেলওয়ে স্টেশনের চলন্ত সিড়ি ভেঙ্গে পড়ে তার মৃত্যু হয়।
কেবি





