পার্লামেন্ট নির্বাচনে সবচেয়ে বড় জয় পেতে যাচ্ছে ইরাকের শিয়া মুসলিম নেতা মুকতাদা আল সদর-এর দল। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নূরী আল মালিকির দল।
নির্বাচনে মুকতাদা আল সদরের দল আগের চেয়ে বেশি আসন পেতে যাচ্ছে। প্রাথমিক রেজাল্ট এবং সদরিস্ট মুভমেন্টের মুখপাত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।
২০০৩ সালে ইরাকে আগ্রাসন চালায় যুক্তরাষ্ট্র। সেই আগ্রাসনে পতন হয় ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের।
তারপর থেকে দেশটিতে সরকারে ও সরকার গঠন প্রক্রিয়ায় প্রাধান্য বিস্তার করে আছে শিয়া গ্রুপগুলো। এতে সুবিধা পাচ্ছে শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠরা ও কুর্দিরা।
কয়েক মাস আগেই গত রোববার আগাম নির্বাচন হয় দেশটিতে। ২০১৯ সালে ব্যাপক গণআন্দোলনে সরকারের পতন ঘটে।
রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে দেখা দেয় জনক্ষোভ। বহু ইরাকির মতে, রাজনৈতিক নেতারা দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে নিজেরা সমৃদ্ধ হচ্ছেন। এরপরেই রোববারের নির্বাচন হলো।
এবারই সেখানে সবচেয়ে কম পরিমাণ মানুষ ভোট দিয়েছেন। শতকরা ৪১ ভাগ ভোটার ভোট দিয়েছেন। নির্বাচনের পর একদিন কেটে গেছে। এখনও বিভিন্ন প্রদেশ এবং রাজধানী বাগদাদ থেকে গণনার ফল আসছে।
এসব ফলকে যাচাই করছেন সরকারি কর্মকর্তারা। তা থেকে দেখা যাচ্ছে মুকতাদা আল সদরের দল কমপক্ষে ৭০ আসনে জিতেছে। যদি এটা নিশ্চিত করা হয় তাহলে সরকার গঠনে তার বড় রকমের প্রভাব থাকবে বলে মনে করা হয়।
তবে মুকতাদা আল সদরের অফিস থেকে বলা হয়েছে, তারা বিজয়ী হয়েছেন ৭৩ আসনে। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলোও তাই বলছে।
ইরাকের নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা বলেছেন, প্রথম হয়েছেন আল সদর। তবে প্রকৃতপক্ষে তার দল কত আসন পেয়েছেন তা নিশ্চিত করেননি তিনি।
ইরাকের পার্লামেন্ট ৩২৯ আসনবিশিষ্ট। প্রাথমিক ফলে দেখা গেছে, ২০১৯ সালের বিক্ষোভ থেকে যেসব সংস্কারপন্থি নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন, তারা বেশ কয়েকটি আসন পেয়েছেন।
ইরান সমর্থন দেয় এমন কিছু পার্টি আছে। মিলিশিয়াদের সঙ্গে আছে তাদের যোগসূত্র। তারা অভিযোগ করেছে প্রতিবাদ বিক্ষোভের সময় প্রায় ৬০০ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।
তারা ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের চেয়ে এবার কম আসন পেয়েছে। ২০১৮ সালে ইরাকে নির্বাচনে প্রথম আসেন আল সদর।
সেই নির্বাচনে তার জোট পেয়েছিল ৫৪ টি আসন। এর ফলে ইরাকে তার ক্ষমতার ব্যাপ্তি বাড়তেই থাকে। অনিবার্য জনপ্রিয় ধর্মীয় এই নেতা দেশটিতে এখন প্রাধান্য বিস্তার করে আছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের পর ইরাকের রাজনীতিতে মাঝে মধ্যেই তিনি কিং-মেকার হয়ে আছেন।
ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রসহ সব রকম বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপের বিরোধী তিনি।
২০০৩ সালের পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র এক বিদ্রোহ শুরু করেন। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তারা বলেন, ইরানে নিয়মিত যাওয়া-আসা করেন তিনি। ইরাক থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এখনও আইসিল বা আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখার জন্য ইরাকে অবস্থান করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৫০০ সেনা সদস্য।
ইরাকের রাজধানী বাগদাদ থেকে বিশ্লেষক আলি আনবোরি বলেছেন, সদরের বিজয় কোনো বিস্ময়কর বিষয় নয়। নির্বাচনে বিজয়ী হতে ভাল ভাল চুক্তি করেছেন মুকতাদা।
সদরিস্ট মুভমেন্টের নির্বাচনী এক চমৎকার প্রচারযন্ত্র আছে। তাদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য সব পন্থাই ব্যবহার করেছে।
এইচএন





