বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন। সেখানে তিনি বলেন, ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কার্যকর আলোচনা চলছে এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দেশটিতে হামলা চালানো হবে না।
তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের বিপরীতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিতে পেন্টাগনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও সম্ভাব্য হামলার কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করেনি মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর।
মার্কিন গণমাধ্যমের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের অর্থনীতি দুর্বল অবস্থায় থাকায় যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে মনে করছে। ওয়াশিংটন চাইলে সহজ কিংবা কঠিন—যেকোনো উপায়ে সংঘাতের অবসান ঘটাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবেন ট্রাম্প।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বৃহস্পতিবার তুর্কমেনিস্তানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, সংকটের সমাধানে ভূমিকা রাখতে রাশিয়া তার সামর্থ্যের মধ্যে সবকিছু করতে প্রস্তুত। চলমান যুদ্ধে ইরান আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন পুতিন।
ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের বিবৃতি অনুসারে, পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানের পথ থেকে তেহরান সরে আসবে না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলার সময়ও নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এরপরও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার চেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা জানান ইরানের প্রেসিডেন্ট।
শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহের কমনওয়েলথের শীর্ষ সম্মেলনের আগে তুর্কমেনিস্তানে দুই নেতার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির নেতৃত্বাধীন সরকার যুক্তরাষ্ট্রের হামলার হুমকির জবাবে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে।
ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় দেশটির অস্ত্র উৎপাদন আড়াই গুণ বেড়েছে। তাদের দাবি, এই উৎপাদন দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে ব্যাপক হামলা শুরু করার পর সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে। ইরানও পাল্টা হামলায় ওই অঞ্চলের মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে। যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও সাময়িক যুদ্ধবিরতি বারবার ভেঙে পড়েছে।
সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিভিন্ন দেশে তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্যের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারেও, বেড়েছে জ্বালানির দাম।
সূত্র: আল জাজিরা ও রয়টার্স
এস
















