বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদৌল্লার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন মীরজাফর। সেই থেকে ভারতবাসীর কাছে ধিক্কৃত চরিত্র হয়ে রয়েছেন তিনি। আর তার বংশধরদেরও সেই গ্লানি নিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে।
তবে মুর্শিদাবাদের নবাবী খেতাব ফিরে পাবার জন্য মীর জাফরের বংশধররা আদালতে যে দীর্ঘ আইনি লড়াই চালাচ্ছিলেন তাতে তাদের জয় হয়েছে। তারা ফিরে পাচ্ছেন নবাবী খেতাব।
আসলে বিশ্বাস ঘাতকতার পুরস্কার হিসেবেই লর্ড ক্লাইভ মীরজাফরকে মুর্শিদাবাদের নবাবের আসনে বসিয়েছিলেন। সেই সময় বৃটিশ পার্লামেন্টে মীর জাফরের পরিবারকেই নবাবের স্বীকৃতি দিয়ে বছরে এক লক্ষ ৮৫ হাজার রুপি ভাতা বরাদ্দ করা হয়েছিল। আর ১৯৬৯ সালে কলকাতায় মারা গিয়েছিলেন মুর্শিদাবাদেরর শেষ নবাব ওয়ারিশ আলি শাহ।
এই সময়ই ভারত সরকার মুর্শিদাবাদের নবাবের উত্তর সুরী কে তা জানতে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। এর কিছুদিনের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রন্ট সরকার হাজার দুয়ারিসহ মুর্শিদাবাদের নবাবের সব সম্পত্তি অধিগ্রহন করে নেয়। নবাবী খেতাবও হারান মীর জাফরের উত্তরসূরীরা।
তবে খেতাব ফিরে পাবার জন্য মীর জাফরের উত্তরসুরিরা আদালতে লড়াই জারি রেখেছিলেন। সেই লড়াইয়ে সুপ্রিম কোর্ট তাদের পক্ষেই রায় দিযেছে।
বুধবার সুপ্রিম কোটের বিচারপতি রঞ্জন গগৈ ও কে আগরওয়ালের বেঞ্চ মীর জাফরের বংশধরকেই নবাবী খেতাব ফিরিয়ে দিয়ে রায় দিয়েছেন। এই রায় জানার পর শেষ নবাব ওয়ারিশের ছেলে ফতেয়ার আলি মির্জার ভাগ্নে আব্বাস আলি মির্জা জানান, এই স্বীকৃতিটুকু আদায়ের জন্য বহু লড়াই করেছি। এই স্বীকৃতি আমাদের পূর্বপুরুষের আত্মাকে শান্তি দেবে।
অবশ্য সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর মীর জাফরের বংশধররা হাজার দুয়ারির প্রাসাদ, ইমামবাড়া , মতিঝিল, ওয়াসিম মঞ্জিলের মত ঐতিহাসিক সৌধগুলির দখল তারা পাবেন কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ঢাকা, ১৪ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএইচ





