জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরাঁর মুখপাত্র স্টিফেন ডুজাররিক বলেছেন, এখনও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেশে ফিরে যাওয়ার মতো উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি হয় নি। মিয়ানমারে তাদেরকে যে বাড়ি থেকে উৎখাত করা হয়েছিল, সেই বাড়িতে ফিরে যেতে দিতে হবে। অবশ্যই তাদেরকে কোনো আশ্রয় শিবির বা ক্যাম্পে রাখা চলবে না। এ ছাড়া, আরও অনেক শর্ত এখনও পূরণ করা হয় নি।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছাড়া স্টিফেন ডুজাররিক রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের এসব উত্তর দেন।
একজন সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে আমার প্রশ্ন। রোহিঙ্গাদের অনেকে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। এমন কোনো উপায় কি আছে, যার অধীনে আর কখনো তাদেরকে মিয়ানমারে পাঠানো যাবে? কারণ, হলো রোহিঙ্গারা মনে করেন তাদেরকে মিয়ানমার আন্তরিকভাবে গ্রহণ করবে না। সেখানকার বিষয়ে জাতিসংঘের স্পেশাল র্যাপোর্টিউর বলেছেন, সীমান্তে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চরম মানবতা বিরোধী অপরাধ ঘটানো হয়েছে। বহু রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে। তাই আদৌও কি তাদের ফিরে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা আছে?
উত্তরে স্টিফেন ডুজাররিক বলেন, ভাল প্রশ্ন। আপনারা জানেন, এখনও পরিস্থিতি উপযোগী নয়। ফলে এর সম্ভাব্যতা সম্পর্কে আপনারা জানেন। সম্প্রতি শরণার্থী বিষয়ক জাতিসংঘের হাই কমিশনার বলেছেন- রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়ার মতো অনুকূল পরিস্থিতি এখনও সৃষ্টি হয় নি। প্রত্যাবর্তন হতে হবে স্বেচ্ছায়। বিদ্যমান আইনের আওতায় তা হতে হবে। পরিস্থিতি সম্পর্কে রোহিঙ্গাদের অবহিত থাকার বিষয়ে সম্মান জানাতে হবে। তারা কোথায় ফিরে যেতে চায় সেটা তাদেরকে বেছে নিতে দিতে হবে।
জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র আরও বলেন, রোহিঙ্গারা যে বাড়ি ফেলে এসেছেন, তাদেরকে সেখানে ফিরে যাওয়ার অধিকার দিতে হবে। তাদেরকে কোনো ক্যাম্প বা আশ্রয় শিবিরে পাঠানো উচিত হবে না। তাদেরকে অবশ্যই সেই বাড়িতে যেতে দিতে হবে, যা তারা ছেড়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন। তাই শরণার্থী বিষয়ক জাতিসংঘের হাই কমিশনার মনে করছেন এসব শর্ত এখনও পূর্ণ কর হয় নি। তারপরও জোরালোভাবে বলতে হয়, যেকোনো প্রত্যাবর্তন হতে হবে স্বেচ্ছায়। সেখানে কোনো শক্তি প্রয়োগ করা উচিত নয়।
এমবি





