ভারত অধিকৃত কাশ্মিরের স্বাধীকারকামী নেতা সাইয়েদ আলী শাহ গিলানির মৃত্যুর পর বুধবার দিবাগত রাতে কাশ্মিরে ভারতীয় পুলিশ তার লাশ ছিনিয়ে নিয়ে গোপনে দাফন কাজ সম্পন্ন করে।

গত বুধবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টায় সাইয়েদ আলী গিলানি কাশ্মিরের রাজধানী শ্রিনগরের হায়দারপোরায় নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন।

এদিকে গিলানির মৃত্যুর পর বুধবার দিবাগত রাতে কাশ্মিরে ভারতীয় পুলিশ তার লাশ ছিনিয়ে নিয়ে গোপনে দাফন কাজ সম্পন্ন করে।

পুলিশ কর্মকর্তা জানান, 'গিলানির মৃত্যুর পর ১-২ সেপ্টেম্বর রাতে বেআইনি কার্যকলাপের জন্য পরিবার, আত্মীয় ও কিছু দুষ্কৃতকারীর বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।'

পুলিশের সূত্র জানায়, পরিবারের সদস্যদের ভারতবিরোধী স্লোগান দিতে এবং গিলানির লাশ পাকিস্তানি পতাকায় আবৃত রাখাসহ দেশবিরোধী কাজের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

পরিবার অভিযোগ করছে, গিলানির শেষ ইচ্ছা অনুসারে তাকে শ্রিনগরের ঈদগাহের কাছে মাজার-ই-শুহাদা কবরস্তানে দাফনের জন্য প্রস্তুতি নেয়া হলেও রাত সাড়ে তিনটায় সরকারি বাহিনী বাড়িতে এসে তার লাশ ছিনিয়ে নেয় এবং বাড়ির কাছে এক কবরস্তানে গোপনে দাফন করে।

তবে কাশ্মির পুলিশ এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে মন্তব্য করেছে।

কাশ্মির পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) বিজয় কুমার বলেছিলেন, কোনো দুষ্কৃতি যাতে পরিস্থিতির সুযোগ নিতে না পারে, সেই লক্ষ্যে পুলিশ ঘর থেকে কবরস্তান পর্যন্ত লাশের নিরাপত্তা দিয়েছে।

কাশ্মিরে ভারত শাসনের বিরোধী স্বাধীকারকামী সংগঠনগুলোর সম্মিলিত জোট অল পার্টিস হুররিয়াত কনফারেন্সের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সাইয়েদ আলী শাহ গিলানি। হুররিয়াত নেতাদের মধ্যে তাকে কট্টরপন্থী হিসেবে বিবেচনা করা হতো।

১৯২৯ সালে জন্মগ্রহণকারী গিলানি তার জীবনের পুরো সময় কাশ্মিরের স্বাধীকার আন্দোলনে ব্যয় করেছেন। ভারতবিরোধী অবস্থানের কারণে বহুবার কারাগারে ও গৃহবন্দীত্বে থাকতে হয়েছে তাকে।

গত এক দশকের প্রায় পুরো সময়েই গৃহবন্দীত্বে ছিলেন তিনি। বার্ধক্য ও দীর্ঘ অসুস্থতায় গত বছর রাজনীতি থেকে অবসর নিয়েছিলেন তিনি। তথ্যসূত্র : দ্য হিন্দু ও দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল।

এইচএন