রয়টার্সকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরানের জ্যেষ্ঠ দুটি সূত্র জানিয়েছে, খামেনির এই সরাসরি নির্দেশনা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আরও ক্ষুব্ধ করতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রক্রিয়াও নতুন অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে।

ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্প আগে ইসরায়েলকে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপযোগী ইউরেনিয়ামের মজুদ দেশটির বাইরে সরিয়ে নেওয়া হবে। এমনকি সম্ভাব্য যেকোনো শান্তি চুক্তিতে বিষয়টি বাধ্যতামূলক ধারা হিসেবে যুক্ত করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন তিনি।

দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ করে আসছে। বিশেষ করে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার বিষয়টি নিয়ে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যদিও ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।

এর আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছিলেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইরান থেকে সরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত এবং তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রক্সি সক্ষমতা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ শেষ বলে বিবেচনা করবেন না তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ইরানি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, “সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশনা এবং সরকারের অভ্যন্তরীণ ঐকমত্য হলো—সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ কোনোভাবেই দেশের বাইরে যাবে না।”

ইরানের কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, এসব তেজস্ক্রিয় উপাদান বিদেশে পাঠানো হলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার মুখে দেশটি আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।

তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস কিংবা ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এস