বুরকিনা ফাসোর বৃহস্পতিবারের সামরিক অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দানকারী এক জেনারেল ‘যত দ্রুত সম্ভব’ নির্বাচন অনুষ্ঠানের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। এ জেনারেল দেশটির ক্ষমতাচ্যুত নেতা ব্লেইস কমপাওরের ঘনিষ্ট সহযোগী ছিলেন। এদিকে দেশটিতে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটানোর প্রতিবাদে ব্যাপক বিক্ষোভ-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে গুলিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে তিনজনে দাঁড়িয়েছে।

পশ্চিম আফ্রিকার দেশটিতে প্রেসিডেন্ট ও আইনসভার নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে এ ঘটনা ঘটলো। গত বছর এক সামরিক অভ্যুত্থানে জান্তা নেতা কমপাওর ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো দেশটিতে আগামী ১১ অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা ছিল।

বুরকিনা ফাসোর মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক চলাকালে এলিট প্রেসিডেনশিয়াল গাডের্র (আরএসপি) সৈন্যরা দেশটির অন্তবর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট মাইকেল কাফান্দো ও প্রধানমন্ত্রী আইজ্যাক জিদাকে আটক করায় বুধবার নতুন করে ক্ষমতার লড়াই শুরু হয়।

এ ধরণের পদক্ষেপ দেশটিকে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে দিয়েছে। তবে অভ্যুত্থানের নেতা জেনারেল গিলবার্ত দিয়েনদের জোর দিয়ে বলেন, তিনি এখনো চান নির্বাচন হোক।

ক্ষমতা নেয়ার কয়েক ঘন্টা পর জেনারেল গিলবার্ত দিয়েনদের এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের ইচ্ছা নিজেদের সুসংগঠিত করে দেশে যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।’ তবে তিনি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করতে অস্বীকৃতি জানান।

তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কুশীলব বিশেষকরে রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের সাথে আমাদের আলোচনা করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

এদিকে বুধবারের সামরিক অভ্যুত্থানের ঘটনার পরপরই প্রেসিডেন্টের প্রাসাদের বাইরে রাজপথে প্রতিবাদ বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। এসময় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে প্রেসিডেনশিয়াল গাডের্র অফিসাররা গুলি চালান।

এ ঘটনায় ওগাদোগো হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, বুধবার থেকে গুলিতে মারাত্মকভাবে আহত হয়ে তিন জন মারা গেছে। এ ঘটনায় আহত কমপক্ষে আরো ৬০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জেডআই