বাংলাদেশে সন্ত্রাসী জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসআইএলের উত্থান ঠেকাতে সব ধরনের প্রস্ততি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া ব্লুম বার্নিকাট।

আজ (সোমবার) জাতীয় প্রেসক্লাবে কুটনৈতিক রিপোর্টারদের সংগঠন-ডিক্যাব আয়োজিত মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশে এমন একজন প্রধানমন্ত্রী রয়েছেন যিনি সব ধরনের সন্ত্রাসী ও জঙ্গী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন। তাই সরকারের সাথে যুক্তরাষ্ট্র একযোগে সন্ত্রাস দমনে কাজ করতে পারবে বলে আশাবাদী তিনি।

তিনি বলেন, আইএসআইএল (ইসলামিক স্টেট অব ইরাক এন্ড দ্য লিভান্ট)-এর মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে কখনই খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। এসব সন্ত্রাসীদের প্রচুর অর্থ-সম্পদ এবং লোকবল রয়েছে।

বাংলাদেশে পর পর দুই বিদেশী নাগরিক হত্যার ঘটনা বর্ণনা করে বার্নিকাট বলেন, দুটো ক্ষেত্রেই হত্যাকান্ডের ধরন ও পরবর্তীতে আইএসআইএল-এর স্বীকারোক্তি এবং অন্যান্য পারিপার্শ্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তাদের কাছে মনে হচ্ছে বাংলাদেশে এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটি মাথা চাড়া দিয়ে উঠার চেষ্টা করছে।

তবে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশে আইএসআইএল-এর কোন অস্তিত্ব নেই। এ বিষয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, আমরা সরকারের সহযোগিতা চেয়েছি। আশা করি সরকারের সাথে একযোগে এ বিষয়ে কাজ করতে পারবো।

সন্ত্রাসীদের কোন দেশ নই, কোন ধর্ম নেই মন্তব্য করে বার্নিকাট বলেন, এসব ঘটনায় দ্রুত ও কার্যকর তদন্ত হতে হবে। আসল অপরাধীদের খুঁজে বের করতে হবে।

সম্প্রতি বাংলাদেশে পর পর ইতালি ও জাপানি নাগরিক খুন হবার কিছুদিন আগেই সরকারকে এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলা হতে পারে মর্মে সতর্ক করে দিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সেই বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে জানতে চাওয়া হয়-বাংলাদেশ সরকার বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কোন গাফলতি ছিল কীনা। এর সরাসরি জবাব না দিয়ে রাষ্ট্রদূত বিষয়টি নিয়ে সরকারের সাথে একযোগে কাজ করার কথা জানান।

এদিকে, বিশ্বাসযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের ভ্রমণ বিষয়ক সতর্কতা হালনাগাদ করেছি জানিয়ে বার্নিকাট বলেন, আমরা ওই বার্তায় মার্কিন নাগরিকদের বাংলাদেশ থেকে চলে যেতে বলেনি, আসতেও নিষেধ করেনি। শুধু বাংলাদেশে অবস্থানের সময় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছি।

বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাতে জেএসপি সুবিধা কবে নাগাদ ফেরত দেয়া হবে জানতে চাইলে বার্নিকাট বলেন, ইতোমধ্যেই শ্রমিকদের কর্মস্থলে নিরাপত্তাসহ বেশ কিছু ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অগ্রগতি অর্জন করেছে। শর্ত অনুযায়ী বাকি বিষয়ে আশানুরুপ অগ্রগতি সাধিত হলেই জেএসপি সুবিধা ফেরত দেয়া হবে।

মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিক্যাব (ডিপ্লমেটিক করেসপন্ডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ) সভাপতি মাসুদ করিম এবং উদ্বোধন করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক বশীর আহমেদ।

কেবি