আসন্ন ১৮তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনকে ঘিরে পাল্টে যাচ্ছে হিমালয় কন্যা নেপাল। দক্ষিণ এশিয়ার সর্বোচ্চ ফোরাম সার্ক সম্মেলনে যোগ দিতে এসে সবাই যেন এক পরিপাটি নেপাল দেখতে পায় সেজন্য ব্যস্ততার যেন শেষ নেই দেশটিতে।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বেলা আড়াইটার দিকে বিমান থেকে কাঠমান্ডুতে অবতরণ করে আনুসঙ্গিক কাজ সেরে যখন কাঠমান্ডুর রাস্তায় বের হলাম তখন বিকাল প্রায় ৪টা। রাস্তায় বের হতেই যেন মনে হলো ঢাকার রাস্তা। ভয়াবহ যানযট।

ট্যাক্সিক্যাবের ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করতেই বললেন, অফিস ছুটির সময় তো, তাই এমন জ্যাম। এটা এখানকার প্রতিদিনের চেহারা। বেশ হাসি পেল যেন ঢাকার রাস্তায় আছি-এমন ভেবে।

তবে, সর্বোচ্চ আধাঘন্টার মধ্যে জ্যাম কেটে যাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি পেলাম ঢাকা থেকে প্রথমবারের মতো নেপালে আসা আমরা তিন সাংবাদিক।

এদিকে, এখনো যে খুব একটা উন্নতির ছোঁয়া লাগেনি নেপালে তা বেশ ভালোই বোঝা যায় রাস্তাঘাটের অবস্থা দেখে। রাস্তায় বেশিরভাগ জায়গাতেই প্রচন্ড ধুলোবালি আবারও যেন ঢাকার কথা মনে করিয়ে দিল।

তবে, এই বেহাল চিত্র যে আর দুদিনে অনেকটাই কেটে যাবে তা নেপালীদের কসরত দেখেই বোঝা যায়। রাস্তায় ব্যাপক উন্নয়ন কাজ চলছে দ্রুততার সাথে। দেখেই বুঝতে পারলাম আসন্ন ১৮তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনকে ঘিরেই এই তোড়জোড়।

হিমালয়ের দেশ নেপালে পাথরের কোন অভাব নেই। রাস্তার দুপাশে সারি সারি করে পাথর দিয়ে তার মাঝখানে মাটি দিয়ে সেখানে ছোট ছোট গাছ লাগানো হচ্ছে।

আগামী ২২ নভেম্বর থেকে সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগেই এসব সাজগোজের কাজ অনেকটাই সম্পন্ন হয়ে যাবে বলেই স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে, সার্ক সম্মেলনের সংবাদ সংগ্রহে যেসব সাংবাদিক আসবেন তাদের জন্য শুক্রবার দুপুর থেকে খুলে দেয়া হচ্ছে কাঠমান্ডুর হোটেল রেডিসনের মিডিয়া সেন্টার। সেখান থেকেই সাংবাদিকরা সংবাদ তৈরি ও তা পাঠানোর ব্যবস্থা করতে পারবেন।

নিবন্ধিত সাংবাদিকদের জন্য এক্রেডিটেশন কার্ডও শুক্রবার দুপুর থেকে সরবরাহ করা হবে বলে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় কয়েকজন নেপালীর সাথে কথা বললে তারা জানান, নেপালের অর্থনীতির মূল ভিত্তি পর্যটন খাতকে ঘিরে। হিমালয়ের সৌন্দর্য দেখতে দূর দূরান্ত থেকে নেপালের পথে পাড়ি জমান নানা দেশের মানুষ। তাই এবারে্র সার্ক সম্মেলনে এসে সবাই যেন একটি পরিচ্ছন্ন কাঠমান্ডু দেখতে পান সেজন্য সবাইকে আন্তরিক হওয়ার জন্য নেপাল সরকার তার জনগণের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

সরকারের এই আহবানে কতটা সাড়া দিবেন জনগণ তা বোঝা না গেলেও পশ্চিমাদের অহরহ আগমনে নেপালে যে পশ্চিমা সংস্কৃতির ছোঁয়া লেগেছে তা বেশ ভালোভাবেই বোঝা যায়।

নেপালের স্থানীয় পোশাকে কাউকে খুজেঁ পেতে রীতিমতো দূরবীণ ব্যবহার করতে হবে বলেই মনে হলো। অধিকাংশ ছেলে-মেয়েরাই জিন্সের টাইট প্যান্ট ও টি-শার্টেই স্বস্তি পাচ্ছেন বলে মনে হলো। ছেলেদের সাথে যেন পাল্লা দিয়ে রাস্তায় মোটরবাইক চালাতে দেখা গেল মেয়েদের।

তবে, এখনো নিজস্ব যেই সংস্কৃতিকে লালন করতে দেখা যাচ্ছে নেপালীদের তা হলো তাদের ঐতিহ্যবাহী টুপি। অনেকের মাথায়ই দেখা গেল সেই টুপি। অন্যদিকে, ভারতের হিন্দীভাষার ব্যাপক প্রভাব দেখতে পেলাম নেপালে। ইংরেজীতে কথা খুব কম লোক বলতে পারলেও হিন্দী ভাষায় অনেকটাই মাতৃভাষার মতো কথা বলতে দেখা গেলো নেপালীদের।

কেবি/কেএইচ/জেআই