ভারতের কংগ্রেস দলের পুরোধা সোনিয়া গান্ধী ২০০৪ সালে বলেছিলেন, অন্তরাত্মার ডাকে তিনি প্রধানমন্ত্রী হতে চাননি। অথচ রাহুল গান্ধী মা সোনিয়া গান্ধীকে কোনোভাবেই প্রধানমন্ত্রী হতে দিতে চাননি। আর এ জন্য যে কোনোকিছু করতে প্রস্তুত ছিলেন রাহুল।
গান্ধী পরিবারের একসময়ের খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু নটবর সিংয়ের লেখা আত্মজীবনীমূলক বই ‘ওয়ান লাইফ ইজ নট ইনাফ’-এর প্রকাশনা সামনে রেখে একটি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে লেখক এমনটাই দাবি করেন।
আজ বৃহস্পতিবার টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনের খবরে এ কথা জানানো হয়।
ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা নটবর সিংয়ের বিরুদ্ধে ইরাকে তেলের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার পর ২০০৫ সালের ডিসম্বরে মন্ত্রিপরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন। তবে তিনি বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন।
নটবর বলেন, রাহুল তাঁর মায়ের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ঘোর বিরোধী ছিলেন। রাহুল বলেছিলেন, তাঁর মা প্রধানমন্ত্রী হলে বাবা ও দাদির মতো মরতে হবে। ছেলে হিসেবে তিনি তা মেনে নিতে পারবেন না। এ বিষয়ে তিনি খুব কঠোর অবস্থানে ছিলেন এবং মাকে প্রধানমন্ত্রী হওয়া থেকে ঠেকাতে যা যা করা দরকার, সব করতে প্রস্তুত ছিলেন। এখানে একজন মাকে ছেলের ভালোবাসার কাছে হার মানতে হয়েছে।
সিং আরও বলেন, ২০০৪ সালের ১৮ মে একটি বৈঠক হয়। সেখানে মনমোহন সিং, গান্ধী পরিবারের বন্ধু সুমন দুবেই, প্রিয়াঙ্কা এবং তিনি উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে প্রিয়াঙ্কা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে তাঁর মায়ের নাম প্রত্যাহার করে মনমোহন সিংকে প্রধানমন্ত্রী করতে রাহুলের দেওয়া প্রস্তাব তুলে ধরেন।
এদিকে এ কথা প্রকাশ হওয়ার পর গত ৭ মে সোনিয়া ও প্রিয়াঙ্কা তাঁর সঙ্গে দেখা করে বই থেকে এ বিষয়টিকে বাইরে রাখতে অনুরোধ জানান। ‘তেলের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি’ কেলেঙ্কারির ঘটনায় কংগ্রেস ছাড়ার পর সিংয়ের সঙ্গে এই প্রথম গান্ধী পরিবারের কেউ দেখা করলেন।
সিংয়ের এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে কংগ্রেসের মুখপাত্র অজয় মাকেন বলেন, ‘এটা খুব বিরক্তিকর ব্যাপার। ইদানীং উল্টাপাল্টা কথা লিখে চাঞ্চল্য তৈরি করা একটি ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এর একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে বইয়ের কাটতি বাড়ানো ও বিনা পয়সায় প্রচার চালানো।’
ঢাকা, ৩১ জুলাই, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএইচ





