লিবিয়ার পরিস্থিতি ক্রমেই আরও খারাপ হচ্ছে৷ গত দু'সপ্তাহ ধরে লিবিয়ার বিশেষ বাহিনী ও ইসলামি জঙ্গিদের মধ্যে যে সংঘর্ষ চলছে, তার ভয়াবহতা হার মানাচ্ছে ২০১১-এর সংঘর্ষকে ৷ শনিবার রাত ও রোববার সকালে বেনগাজিতে যে সংঘর্ষ চলছে, তাতে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩৬ জন৷ অন্য দিকে, শনিবার ত্রিপোলির কাছে রকেট হানায় নিহত হয়েছে ২৩ জন৷ এরা সকলেই মিশরের শ্রমিক৷
২০১১-এর সংঘর্ষে মুয়াম্মর গাদ্দাফি গদিচ্যুত হওয়ার আগে এ ধরনের হিংসার নজির দেখেছিল লিবিয়া৷ সেখানকার অন্তর্বর্তী সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ৷ বেনগাজিতে জঙ্গি ঘাঁটি ভাঙতে আক্রমণ চালাচ্ছে সেনা, আর তার জেরে প্রতিদিন প্রাণ হারাচ্ছেন শয়ে শয়ে সাধারণ মানুষ৷ লিবিয়ার দূতাবাস থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার কথা আগেই জানিয়েছিলেন ওবামা প্রশাসন৷ শনিবার লিবিয়ার মার্কিন দূতাবাস খালি করে দেওয়া হয়৷ কড়া প্রহরার মধ্যে দূতাবাস কর্মীদের তিউনিসিয়া সীমান্ত পার করিয়ে দেওয়া হয়েছে৷
লিবিয়ার এই পরিস্থিতিতে কোনো দেশই আর তাদের দূতাবাস কর্মীদের সেখানে রাখার সাহস পাচ্ছেন না৷ সেখানে বসবাসকারী জার্মান নাগরিকদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব লিবিয়া ছাড়তে বলেছে জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়৷ সেই মন্ত্রণালয় সূত্রে বলা হয়েছে, 'লিবিয়ার পরিস্থিতি খুবই অনিশ্চিত৷ জার্মান নাগরিকরা যেকোনো মুহূর্তে আক্রমণ বা অপহরণের শিকার হতে পারেন৷'
সংঘর্ষের কারণে ১৩ জুলাই থেকেই বন্ধ রাখা হয়েছে ত্রিপোলি বিমানবন্দর৷ লিবিয়ায় তাদের নাগরিকদের সতর্ক করেছেন বৃটেনের কর্তৃপক্ষও৷ ত্রিপোলিতে ঝামেলা ক্রমশ বাড়ছে বলেই সেখানে যাওয়ার ব্যাপারে সতর্কতা জারি করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কমনওয়েলথ অফিস৷ বৃটিশ দূতাবাস এখনই বন্ধ করা হচ্ছে না, কিন্ত্ত স্বল্প সংখ্যক কর্মী দিয়ে সেখানে কাজ ঠিকমতো চালানো সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ৷ গত কয়েক মাসে লিবিয়ায় বেশ কিছু বিদেশিকে গুলি করে মারা হয়েছে৷ তাই নিরাপত্তার ব্যাপারে কড়া সতর্কতা জারি করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ধারণা, এখনও অন্তত ১০০ থেকে ৩০০ বৃটিশ নাগরিক রয়েছেন লিবিয়াতে৷ বিপদ এড়াতে কোনও সমাবেশ বা বিক্ষোভে যোগ দিতে বারণ করা হয়েছে তাদের৷ লিবিয়াবাসী নাগরিকদের সতর্ক করেছে ফ্রান্স প্রশাসনও৷ বেনগাজিতে যাওয়ার ব্যাপারে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে তারা৷ প্রাণ বাঁচাতে ত্রিপোলি ছেড়ে পালাচ্ছেন অনেক পরিবার৷
আরব লিগ, জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় দেশগুলির বিশেষ দূত লিবিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন৷ সেখানকার পরিস্থিতিকে 'উদ্বেগজনক' বলে উল্লেখ করে দু'পক্ষকেই অস্ত্র বিরতির অনুরোধ জানিয়েছেন তারা৷ অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর আগস্টে শুরু হতে চলেছে অধিবেশন৷ তখন দু'পক্ষের মধ্যে চুক্তি করে শান্তি ফেরানোর সম্ভব বলে আশাবাদী লিবিয়া প্রশাসন৷
ঢাকা,২৮ জুলাই,টাইমনিউজবিডি.কম,কেএ





