ফিলিস্তিনি বিখ্যাত বামপন্থী নারী অ্যাক্টিভিস্ট রাসমিয়া ইউসেফ ওদেহ। ইসরাইলি সেনাদের হাতে আটকের পর নির্মম নির্যাতনের শিকার হন তিনি। পরে বন্দি বিনিময়ের মাধ্যমে মুক্তি পান।

এক পর্যায়ে প্রাণ বাঁচাতে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়ে নাগরিকত্বও পান তিনি। কিন্তু ২৩ বছরপর নাগরিকত্ব বাতিল করে ৭০ বছর বয়সের এ অ্যাক্টিভিস্টকে বহিষ্কারের আদেশ দিয়েছে একটি মার্কিন আদালত।

রাসমিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ, মার্কিন নাগরিকত্ব নেয়ার সময় তিনি ১৯৬৯ সালে জেরুজালেমে দুটি বোমা হামলা চালানোর দায়ে দণ্ডিত হওয়ার তথ্য গোপন করেছেন।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েট শহরের একটি আদালত রাসমিয়ার নাগরিকত্ব প্রত্যাহার ও বহিষ্কারের আদেশ দেয়।

আদেশে রাসমিয়াকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করে জর্দানে পাঠাতে বলা হয়েছে। তিনি আজীবন আর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। এছাড়া তাকে এক হাজার ডলার জরিমানও করা হয়েছে।

শুনানিকালে আদালতের বিচারক রাসমিয়ার প্রতি ক্ষুব্ধ আচরণ করে।

ফিলিস্তিনি এ অ্যাক্টিভিস্ট তার বিরুদ্ধে আনা সন্ত্রাসী অপবাদ প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে কথা বলার চেষ্টা করেন।

রাসমিয়া আদালতকে জানান, ইসরাইলি কারাগারে বন্দি থাকার সময় তাকে নির্মম নির্যাতন করে বোমা হামলায় জড়িত থাকার স্বীকারোক্তি নেয়া হয়েছিল। তিনি কোনো ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন।

এ সময় মার্কিন ফেডারেল জজ গারশুয়িন ড্রেইন তিন দফা রাসমিয়াকে বাধা দেন। এক পর্যায়ে তাকে জেলে পাঠানোর হুমকি দেন। তবে রাসমিয়া বলেন, আমি উচ্চকণ্ঠে এ কথাটি বলতে চাই-স্বদেশের মুক্তির জন্য লড়াই করার ন্যায়সঙ্গত অধিকার রয়েছে আমাদের।

রাসমিয়া ১৯৭৯ সালে ফিলিস্তিনের জনপ্রিয় বামপন্থী প্রতিরোধ সংস্থা পিএলএফের সঙ্গে ইসরাইলি বন্দি বিনিময় কর্মসূচির আওতায় মুক্তি পান।
এরপর ১৯৯৪ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। এর এক দশক পরে তিনি মার্কিন নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন।

রাসমিয়া বর্তমানে শিকাগোতে সমাজ সেবা ও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনাকারী 'আরব আমেরিকান অ্যাকশন নেটওয়ার্ক' নামে একটি সংগঠনের সহযোগী পরিচালক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

অভিবাসীদের, বিশেষ করে আরব নারীদের নিয়ে অ্যাক্টিভিজম করার জন্য রাসমিয়া ওদেহকে মার্কিন সমাজে বেশ সম্মানের চোখে দেখা হয়।

২০১৪ সালের নভেম্বরে বেআইনিভাবে নাগরিকত্ব আবেদনে তথ্য গোপনের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ওই সময় তাকে পাঁচ সপ্তাহের নির্জন কারবাস ভোগ করতে হয়।

পরে ২০১৫ সালে তাকে দেড় বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। তবে তার আপিল আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকায় তিনি জামিনে মুক্তি পান।

পরে গত এপ্রিল মাসে ডেট্রয়টের ফেডারেল আদালত রাসমিয়াকে ইসরাইলি সামরিক আদালতে দণ্ডিত হওয়ার তথ্য গোপন করার জন্য দোষী সাব্যস্ত করে।তবে তখন কোনো আদেশ দেয়া হয়নি।

পরে বৃহস্পতিবার রাসিময়ার নাগরিকত্ব বাতিল ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের আদেশ জারি করে আদালত।

এ সময় শিকাগো এলাকায় ফিলিস্তিনি নারীদের জন্য রাসমিয়ার ভূমিকার প্রশংসা করেন বিচারক গারশুয়িন ড্রেইন। তবে অভিবাসন নিয়মের কারণে তার বিরুদ্ধে রায় দিতে হয়েছে বলে জানান বিচারক।

এদিকে রাসমিয়ার রায় উপলক্ষে এক হাজারেরও বেশি মানুষ শিকাগো থেকে ডেট্রয়টের আদালতে জড়ো হন।

তাদের একজন হাতেম আবুদাইয়াহ বলেন, রাসমিয়া মার্কিন বিচার ব্যবস্থার অবিচারের শিকার হয়েছেন। তিনি একজন ফিলিস্তিনি নারী, তিনি গত ৫০ বছর ধরে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন, শুধু এ কারণেই তাকে বহিষ্কারের আদেশ দেয়া হয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা, ওয়াশিংটন টাইমস, ক্লিক অন ডেট্রয়েট

জেড