গত দুইদিনে এক লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি সিরীয় কুর্দি সীমান্ত অতিক্রম করে তুরস্কে পালিয়েছে। সিরিয়ার তুরস্ক সীমান্ত সংলগ্ন শহরের কাছের কয়েকটি গ্রাম জিহাদী গ্রুপ ইসলামিক স্টেট (আইএস) দখলে নেয়ার পর তারা তুরস্কে পালাতে শুরু করে। খবর বিবিসির।
এদিকে, কুর্দি শরণার্থীদের ঢল ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে তুরস্ক। তারা ইতোমধ্যে সীমান্ত সংকুচিত করে নিয়েছে। সিরিয়ার সঙ্গে ৯টি বর্ডার ক্রসের মধ্যে ৭টিই ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, আইএস-এর হুমকির মুখে পড়ার পর কুর্দিরা তুরস্কের পালিয়ে আসা শুরু করলে তুরস্ক তার ২৫ কিলোমিটার সীমান্ত পথ খুলে দেয়।
এদিকে, তুরস্কের কুর্দিরা আইএস-এর আক্রমণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন। তাদের অনেকেই সিরিয়ায় গিয়ে আইএস-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হতে চাচ্ছেন। এ নিয়ে তুরস্কের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষও হয়েছে কুর্দিদের।
উল্লেখ্য, তুরস্কে আগে থেকেই দশ লাখেরও বেশি সিরীয়কে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় দিয়েছে। সিরিয়ায় ২০১১ সালে গৃহযুদ্ধ শুরুর পর থেকে সিরিয়ার এসব শরণার্থী পার্শ্ববর্তী তুরস্কের আশ্রয় নেন।
এখন আরও নতুন করে যুক্ত হলো এক লাখ ৩০ হাজার কুর্দি শরণার্থী। উল্লেখ্য, কুর্দিরা তুরস্কের প্রতি বৈরী মনোভাব পোষণ করে থাকে। প্রায় ৩০ বছর ধরে কুর্দি বিদ্রোহীরা তুরস্কের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ করেছে। এতে উভয় পক্ষে নিহত হয়েছে ৪০ হাজারেরও বেশি।
এদিকে গতকাল রোববার আইএস বিদ্রোহীদের দখলে থাকা এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে সিরিয়ার বিমান বাহিনী। এতে অন্তত ৪২ জন নিহত হয়েছেন।
তবে, বিমান হামলা চলা সত্ত্বেও আইএস তাদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে। আর তাতেই কুর্দিরা ভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে পালাচ্ছে। কুর্দি ও শিয়াদেরকে অবিশ্বাসী বা কাফির বলে অভিহিত করে থাকে সুন্নী যোদ্ধা গোষ্ঠী আইএস। তাই তাদের আক্রমণের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে এই কুর্দি ও শিয়ারা।
এদিকে, আইএস-কে দমনে আমেরিকা ও অন্যান্য পশ্চিমা শক্তিগুলো ঐক্যমত্য পোষণ করেছে। তাদের সাথে একজোট হয়ে লড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো। আইএস-কে দমনের কৌশল নির্ধারণে সম্প্রতি একটি সম্মেলনও করেছে পশ্চিমা ও আরব উপসাগরীয় দেশগুলো। সম্মেলনে ইরানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। কিন্তু আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন ইরান ছাড়া আইএস-কে দমন সম্ভব নয়। এই তাগিদ থেকেই সম্ভবত ইরানকে এখন কাছে টানার চেষ্টা করছে আমেরিকা। রোববার নিউ ইয়র্কে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফের সঙ্গে একটি বৈঠক করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। উল্লেখ্য, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে এখন নিউ ইয়র্কে রয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সূত্র: বিবিসি
ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএমএ





