উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে দোষীসাব্যস্ত করে ৫০ সপ্তাহের কারাদণ্ড দিয়েছে লন্ডনের একটি আদালত।

জামিনের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগের শুনানিতে সাউথার্ক ক্রাউন আদালতের বিচারক জানিয়েছিলেন ৪৭ বছর বয়সী অ্যাসাঞ্জ জামিন শর্ত ভঙ্গ করে সর্বোচ্চ শাস্তি যোগ্য অপরাধ করেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, দণ্ড ঘোষণার আগে অ্যাসাঞ্জের লেখা একটি চিঠি আদালতে পড়ে শোনানো হয়।

প্রায় ৭ বছর আগে যুক্তরাজ্যের একটি আদালত থেকে জামিন নেওয়ার পর লন্ডনে একুয়েডরের দূতাবাসে আশ্রয় নেন অ্যাসাঞ্জ। বিচার এড়াতে সেখান থেকে তিনি আর বের হননি।

অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক অ্যাসাঞ্জ ২০১০ সালে পেন্টাগন ও মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লাখ লাখ সামরিক ও কূটনৈতিক গোপন নথি ফাঁস করে দিয়ে বিশ্বজুড়ে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছিলেন।

যার মধ্যে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে আফগান যুদ্ধসম্পর্কিত ৭৬ হাজার এবং ইরাক যুদ্ধ সম্পর্কিত আরো ৪০ হাজার নথি ছিল। যা যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও পেন্টাগনকে চরম বেকায়দায় ফেলে দেয়।

গোপন নথি ফাঁসের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে মামলা চলছে।

একুয়েডর সরকার শুরুতে অ্যাসাঞ্জকে দৃঢ় সমর্থন করলেও নানা অভিযোগ তুলে গত মাসে লন্ডনের দূতাবাস থেকে তাকে বের করে দেয়। 

এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে অ্যাসাঞ্জের রাজনৈতিক আশ্রয় প্রত্যাহার করে তাকে ব্রিটিশ পুলিশের হাতে তুলে দেয় ইকুয়েডর। গ্রেফতারের পর অ্যাসাঞ্জকে লন্ডনের ওয়েস্ট মিনিস্টার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে জামিন শর্ত ভঙ্গে দোষী সাব্যস্ত হন তিনি।

বুধবার (০১ মে) উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে দণ্ড ঘোষণা করা হয়। তবে তার আগে অ্যাসাঞ্জের লেখা ক্ষমা প্রার্থনার চিঠি আদালতে পড়ে শোনানো হয়।

চিঠিতে শর্ত ভঙ্গের কারণ হিসেবে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি খাকাকে কারণ হিসেবে হাজির করেন তিনি। বলেন, “যারা এতে অসম্মানিত বোধ করেছেন তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। ওই সময়ে যা সবচেয়ে ভালো বলে মনে করেছি আমি তাই করেছি অথবা কেবলমাত্র তাই করতে পারতাম।”

অ্যাসাঞ্জের দণ্ড ঘোষণার সময়ে বিচারব দেবোরাহ টেইলর অ্যাসাঞ্জকে বলেন, দূতাবাসে পালিয়ে থেকে আপনি যুক্তরাজ্যে থেকেও ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেকে নাগালের বাইরে রেখেছেন।

এমবি