অবৈধভাবে প্রবেশ ও গোয়েন্দাগিরির অভিযোগে মার্কিন এক নাগরিককে ৬ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে উত্তর কোরিয়ার একটি আদালত। রোববার সকালে দেশটির এক আদালতে সংক্ষিপ্ত শুনানির পর তার এ রায় দেয়া হয়। খবর গার্ডিয়ানের।

ম্যাথু মিলার নামের ২৪ বছর বয়সী এই মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি পর্যটন ভিসায় উত্তর কোরিয়ায় প্রবেশ করেন। কিন্তু পিয়ংইয়ং বিমানবন্দরে নামার পরই তিনি পর্যটক ভিসাটি ছিঁড়ে ফেলেন।

তার বিরুদ্ধে উত্তর কোরিয়ায় অব্স্থান করে আমেরিকার গোয়েন্দাদের কাছে গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগ এনেছে সমাজতান্ত্রিক এ দেশটি। তিনি আইপ্যাড ও আইপড-এ করে এসব তথ্য পাচার করতেন বলে উত্তর কোরিয়ার আদালত জানায়।

ম্যাথু মিলার নামের এই মার্কিন গত ১০ এপ্রিল উত্তর কোরিয়ায় পৌঁছান। তিনি দেশটিতে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন। কিন্তু উত্তর কোরিয়া অভিযোগ করে যে, মিলার দেশের গোপন সামরিক তথ্য আমেরিকায় পাচার করতেন।

আদালতের রায়ে তার আপিলের সুযোগ রাখা হয়নি। কারাভোগের ৬ বছর তাকে কঠোর পরিশ্রমের কাজ করতে হবে।

কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সির প্রকাশিত এক ছবিতে দেখা গেছে, কালো পোশাক পরিহিত মিলার মলিন মুখে বসে আছেন। তার চারপাশে রয়েছে নিরাপত্তা কর্মী। আদালতে তার রায় ঘোষণার পর হাতকড়া লাগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

এদিকে মার্কিন সরকার মানবিক খাতিরে মিলারকে মুক্তি দেয়ার জন্য উত্তর কোরিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। চলতি মাসে পিয়ংইয়ংয়ে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক রেসলিং প্রতিযোগিতা কাভার করতে যাওয়া মার্কিন সাংবাদিকদের মিলার জানান যে, তিনি বারাক ওবামার কাছে সহায়তা চেয়ে অনুরোধ পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।

সিএনএন-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মিলার বলেন, "আমার অব্স্থা শোচনীয়। মার্কিন সরকারের প্রতি সাহায্য চাওয়ার জন্য এটিই মনে হয় আমার শেষ সুযোগ।"

এদিকে উত্তর কোরিয়ায় অবস্থানরত জেফরি ফাউলি নামের আরেজন মার্কিন নাগরিককে শীঘ্রই বিচারের সম্মুখীন করা হবে বলে জানিয়েছে দেশটি। তিনিও পর্যটক ভিসা নিয়ে দেশটিতে যান। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, বন্দরনগরী ছোনজিন-এ তিনি নাবিকদের একটি ক্লাবে গিয়ে সেখানকার টয়লেটে খ্রিস্টানদের ধর্মীয় গ্রন্থ বাইবেলের একটি কপি রেখে আসেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ওহিও থেকে উত্তর কোরিয়ায় যাওয়া ফাওলি পিয়ংইয়ংয়ে এপি-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, রাজধানীর একটি হোটেলের গেস্টরুম থেকে তাকে আটক করা হয়; সেখানে তিনি হোটেলের স্যুটে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। ৫৬ বছর বয়সী ফাওলির স্ত্রী হলেন রাশিয়ান। এই সুবাদে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি তিনি সহায়তা চেয়েছেন।

পর্যটকের ভিসা নিয়ে যেসব বিদেশি উত্তর কোরিয়ায় গিয়ে খ্রিস্টান ধর্মীয় প্রচারে লিপ্ত থাকে তাদের সঙ্গে কঠোর আচরণ করে থাকে দেশটি।

২০১২ সালে কেনেথ বে নামের এক মার্কিন খ্রিস্টান মিশনারিকে আটক করে উত্তর কোরিয়া। তাকে ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছিল। কেনেথ বে-র মুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্র রর্বাট কিং নামের একজন দূতকে পাঠায় আমেরিকা। কিন্তু উত্তর কোরিয়া তার এ সফর বাতিল করে।

৪৬ বছর বয়সী বে জানান, ক্যাম্পে আটক অব্স্থায় তাকে প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে কাজ করতে হয়। গত ১৮ মাস ধরে তাকে এ শাস্তি ভোগ করতে হচ্ছে। পিঠে প্রচণ্ড ব্যাথার কারণে একবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।

আগে আটককৃত মার্কিন নাগরিকদের ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য উচ্চ পর্যায়ের মার্কিন কর্মকর্তাদের সফরই যথেষ্ট ছিল। কিন্তু এখন সে সুযোগও রাখছে না উত্তর কোরিয়া।

২০১০ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার আইজালোন গোমেজ নামের এক মার্কিন মিশনারীকে ছাড়িয়ে নিতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করেন। এ ছাড়া বছরখানেক আগে দু'জন মার্কন সাংবাদিককে ছাড়িয়ে নিতে ভূমিকা রাখেন বিল ক্লিনটন। সূত্র: গার্ডিয়ান

ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএমএ