রোববার দক্ষিণবঙ্গে ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে যখন আকাশ মেঘে ছেয়ে গেছে, তখনই বয়ে যাওয়া পশ্চিমী ঝঞ্ঝার দাপটে তুষারপাত হয়েছে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ে!

রোববার আরব সাগরে একটি অতি গভীর নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। তার নাম দেয়া হয়েছে নিলফার। আগামী দিন তিনেকের মধ্যে সেটি গুজরাত সংলগ্ন পাকিস্তান উপকূলে আছড়ে পড়বে বলেই আবহবিজ্ঞানীদের পূর্বাভাস।

সেই ঘূর্ণিঝড়ের অভিমুখ পরিবর্তিত হলে তা গোটা ভারতের আবহাওয়াতেই পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন আবহবিদেরা।

নিলুফার পাকিস্তানের দেয়া নাম। ১২ অক্টোবর বিশাখাপত্তনমে আছড়ে পড়া ঘূর্ণিঝড়ের নামটি ছিল হুদহুদ, যা ওমানের দেয়া। হুদহুদের নামের মানে যেমন বার্তাবাহক পাখি, উর্দু শব্দ নিলুফারের অর্থ শালুক ফুল।

বিশ্বের আবহাওয়ায় বদলের কথা বারবারই বলছেন পরিবেশবিদ ও আবহবিজ্ঞানীরা। ভারতের ক্ষেত্রেও তার প্রমাণ মিলছে বলে তারা জানিয়েছেন।

পরিবেশবিদ ও আবহবিজ্ঞানীদের একাংশের মতে, বর্ষা ও শীতের খামখেয়ালিপনা আগেই ধরা পড়েছিল। গত বছর থেকে উত্তর ভারত মহাসাগরে আবহাওয়ার পরিবর্তনও স্পষ্ট হচ্ছে।

গত বছরই বঙ্গোপসাগরে দুই মাসের মধ্যে চারটি ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়েছিল। শক্তির বিচারে চারটিই ছিল অতি-প্রবল মাত্রার।

অক্টোবরে তৈরি হওয়া হুদহুদও অতি-প্রবল ঘূর্ণিঝড় ছিল। ভারতের আবহাওয়া অফিস মৌসম ভবনের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, নিলুফারও অতি-প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের চেহারা নিতে পারে।

এমন প্রেক্ষাপটে রোববার এমনই অবাক করা আবহাওয়া মিলেছে দার্জিলিং জেলার বিভিন্ন জায়গাতেও। এ দিন সকাল সাতটা থেকে সান্দাকফু ও ফালুটে তুষারপাত শুরু হয়।

পরিবেশপ্রেমী সংগঠন ‘ফেডারেশন অব সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট প্রোটেকশন’-এর সম্পাদক ভারতপ্রকাশ রাই জানিয়েছেন, সান্দাকফু থেকে এক ব্যক্তি তাকে ফোন সকাল ৭টা নাগাদ বরফ পড়ার কথা জানান। ৭ মিনিট ধরে চলে তুষারপাত। তবে কোথাও সেই বরফ জমেনি। ফালুটেও একই রকম ভাবে বরফ পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, ডিসেম্বর থেকে সেখানে জাঁকিয়ে শীত পড়া শুরু হয়। জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের মধ্যেই সাধারণত তুষারপাত হয় সেখানে।

চলতি বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি ও ২০ মার্চ সান্দাকফু ও ফালুটে তুষারপাত হয়েছিল। কিন্তু অক্টোবর মাসে তুষারপাত বিরল ঘটনা বলেই জানাচ্ছেন বাসিন্দারা।

হঠাৎ তুষারপাতের রহস্য কী :

আলিপুর আবহাওয়া দফতরের কর্মকর্তা গোকুলচন্দ্র দেবনাথের ব্যাখ্যা, ভুটান এবং সংলগ্ন উত্তরবঙ্গ দিয়ে একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা বয়ে যাচ্ছে। তার জেরেই ওই এলাকায় তুষারপাত হয়েছে।

এ দিন শিলিগুড়ির আকাশও ছিল মেঘলা। পশ্চিমী ঝঞ্ঝা বয়ে যাওয়ার কারণেই মেঘলা আকাশ বলে আবহাওয়া অফিস সূত্রের খবর।

এ দিন কড়া ঠান্ডা পড়েছিল দার্জিলিঙেও। বিকেলেই তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি নেমে আসে। সকালে দার্জিলিং থেকে ৬১ কিলোমিটার দূরে সান্দাকফুতে বরফ পড়ার কথা শুনে কয়েক জন পর্যটক সেখানে যাওয়ার ব্যাপারেও উৎসাহী হয়ে ওঠেন।

গত ১১ জানুয়ারি দার্জিলিং শহর থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে টাইগার হিলে বরফ পড়েছিল। কিন্তু তা জমতে পারেনি। তার ঠিক ৩৫ দিন পর ১৬ ফেব্রুয়ারি ফের বরফ পড়ে টাইগার হিলে।

তখন অবশ্য প্রায় ২ ইঞ্চি পুরু বরফ জমে গিয়েছিল ওই এলাকায়। এ দিনের সান্দাকফুর বরফ পড়া শুনে স্থানীয় অনেক বাসিন্দাই সেই স্মৃতি উস্কে দিয়েছেন।

কিন্তু আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় এ বছর ফের তেমন কিছু ঘটে কি না, সেটাই দেখার।

ইআর