আবারও বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন ঘাটিতে চালানো হলো রকেট হামলা। তবে এ হামলায় কারও মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়নি, তবে আহত হয়েছেন ৪ ইরাকি সেনা।
কর্তৃপক্ষ জানায়, স্থানীয় সময় রোববার রাতে ‘আল বালাদ’ ঘাঁটি লক্ষ্য করে কমপক্ষে ছয়টি রকেট ছোঁড়া হয়েছে। যাতে, ৩ ইরাকি নিরাপত্তারক্ষী এবং এক সেনা কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন।
ইরাকের রাজধানী বাগদাদ থেকে ৫০ কিলোমিটার উত্তরে আল-বালাদ বায়ুসেনা ঘাঁটি অবস্থিত। এখানে মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি বেস আছে। এ দিন স্ট্যাটিজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সেনাঘাঁটির অভ্যন্তরের রানওয়েতে পরপর ছয়টি রকেট এসে পড়ে।
ইরানের সঙ্গে সম্প্রতিক তিক্ততার জেরে সম্প্রতি ইরাকের মাটিতে আরো সতর্ক হয়েছে পেন্টাগন। যে কারণে এই ঘাঁটি থেকে অধিকাংশ মার্কিন সেনাকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছিল বলে সামরিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
এই ঘাঁটিতে, মার্কিন প্রশিক্ষক, উপদেষ্টা এবং যুদ্ধবিমান ‘এফ-সিক্সটিন’র ব্যবস্থাপনার জন্য নিয়োজিত সেনাসদস্যরা রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান টানাপোড়েনের মধ্যে নতুন হামলার পর, বারবার বিভিন্ন বরাত দিয়ে মার্কিন সেনাদের সুরক্ষার বিষয়টি প্রচার করা হচ্ছে।
কারণ, ইরানি কমান্ডার কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে গেলো সপ্তাহে ইরাকের দুটি ঘাঁটিতে মিসাইল ছোঁড়া হয়। তেহরানের দাবি, তাতে প্রাণ হারান কমপক্ষে ৮০ মার্কিন সেনা।
উল্লেখ্য, স্থানীয় সরকারকে সহায়তার জন্য ইরাকের বিভিন্ন ঘাঁটিতে বর্তমানে প্রায় ৫,০০ মার্কিন সামরিক সদস্য মোতায়েন আছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে উত্তেজনার পারদ ক্রমশ চড়ছে। মার্কিন ড্রোন হানায় ইরানের কুদস বাহিনীর প্রধান কাসেম সুলাইমানির মৃত্যুর পরে তা তলানিতে এসেছে ঠেকেছে।
এর বদলা নিতে ইরান শুরু করে প্রত্যাঘাত। সম্প্রতি ইরাকে দু'টি মার্কিন সেনাঘাঁটিতে এক ডজন মিসাইল হামলা চালায় তেহরান।
এখানেই খান্ত না থেকে কয়েকদিন আগে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনি হুমকির সুরে বলেছিলেন, 'মিসাইল হামলা শুধু আমেরিকার গালে থাপ্পড় ছিল। বদলা এখনো বাকি।' সেই আবহে ইরাকের আরো একটি মার্কিন সেনাঘাঁটিতে হামলার ঘটনা ঘটল।
বাগদাদের উত্তরে আল-বালাদ মার্কিন ঘাঁটিতে রকেট হামলার দায় এখনো কেউ স্বীকার করেনি। তবে এই হামলার নেপথ্যে ইরানের হাত থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইরাকের মার্কিন ঘাঁটিতে এই দিনের হামলার ঘটনা মার্কিন-ইরান সম্পর্কে নয়া তিক্ততার সৃষ্টি করবে বলেই মত পর্যবেক্ষক মহলের।
এএস





