একের পর এক বিতর্কিত টুইট বার্তা ও নানামুখী সিদ্ধান্তের ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে আলোচিত-সমালোচিত ব্যক্তি এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশের প্রধান আইন কর্মকর্তাকে অযোগ্য ঘোষণা করে অপসারণের সিদ্ধান্ত, কোন ধরনের বিকল্প প্রস্তাব ছাড়াই বহুল আলোচিত মার্কিন স্বাস্থ্যনীতি ‘ওবামা কেয়ার’ বাতিল, নিজেকে আব্রাহাম লিংকনের সাথে তুলনা করা এবং হিজড়াদের সেনাবাহিনীর কোন পদে জায়গা না দেয়াসহ নানা ঘোষণায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এই ধনকুবের প্রেসিডেন্ট।

ট্রাম্পের একের পর এমন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও তা টুইট বার্তায় প্রকাশের পটভূমিতে নিউইয়র্কের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘দি নিউইয়র্ক টাইমস’ - এর প্রতিবেদনে বলা হয় একটি বাজে সপ্তাহ পার করলেন ট্রাম্প।

আর এমনই পটভূমিতে সবশেষ আগামী বিশ্বের প্রধান পরাশক্তি হিসেবে যাকে ভাবা হয় সেই চীনের সাথে দ্বন্দ্বে জড়ানোর ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প। তাও আবার উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে।

বিবিসির রিপোর্টে বলা হয়, রোববার দেয়া ওই টুইট বার্তায় উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে চীনের ভূমিকায় তিনি খুবই হতাশ (very disappointed) হয়েছেন বলে মন্তব্য করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ শহরে আঘাত হানতে পারে এমন ক্ষেপনাস্ত্রের পরীক্ষা করায় উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়ায় চীনের ব্যাপারে এমন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন ট্রাম্প।

তিনি বলেন, চীন এ বিষয়ে যতটুকু পদক্ষেপ নিতে পারতো তা নেয়নি। অথচ এই চীনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাণিজ্য করে কোটি কোটি ডলার উপার্জন করছে। আর এজন্য তিনি তার পূর্বের রাষ্ট্রপ্রধানদের নীতিরও কড়া সমালোচনা করেন এবং তাদেরকে বোকা বলে আখ্যায়িত করেন।

অবশ্য শনিবার উত্তর কোরিয়া ক্ষেপনাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর পর এর নিন্দা জানায় চীন। তবে, চীনের এই পদক্ষেপ যথেষ্ট নয় বলে দাবি ট্রাম্পের।

এমনকি উত্তর কোরিয়ার ব্যাপারে চীনকে এমন দায়সারা ভূমিকায় থাকতে দেয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প।

উত্তর কোরিয়ার সাথে বিশাল অভিন্ন সীমা রয়েছে চীনের এবং চীন ও কোরিয়ার মধ্যে বিপুল পরিমান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য রয়েছে সেদিকে ইঙ্গিত করে ট্রাম্প বলেন, কোরিয়ার উস্কানিমূলক তৎপরতার বিরুদ্ধে চীনের কাছ থেকে তিনি আরো কঠোর পদক্ষেপ আশা করেন।

টুইট বার্তায় উত্তর কোরিয়াকে আঞ্চলিক শান্তির পথে হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করে ট্রাম্প বলেন, দেশটির বিরুদ্ধে শুধু মৌখিক ও দায়সারা গোছের আলোচনা ছাড়া আমেরিকার জন্য কিছুই করেনি চীন। এটা চলতে দেয়া হবে না।

তবে, উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপনাস্ত্র নির্ভূলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হবে কীনা বিশেষ করে আমেরিকার বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে তা নিয়ে এখনো সন্দেহ রয়েছে বিশেষজ্ঞদের। একই সাথে এই দূরপাল্লার ক্ষেপনাস্ত্র পারমানবিক বোমা বহন করতে কতটা সক্ষম তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে বিশেষজ্ঞদের।

তবে, যেভাবে উত্তর কোরিয়া ক্ষেপনাস্ত্র নির্মান ও তা পরীক্ষা করছে তাতে ধারণা করা হচ্ছে আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে আমেরিকার যে কোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হবে।

কেবি