আইএসআইএল গঠনের পেছেনে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে ইরাকের সাবেক এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার নাম উঠে এসেছে। তিনি স্বৈরশাসক সাদ্দাম হোসেনের সময় কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে।
উত্তর সিরিয়া দখলে নিতে গুপ্তচরবৃত্তি, নজরদারি, অপহরণ ও হত্যাসহ জঙ্গীদের অতিসতর্ক পরিকল্পনা তত্ত্বাবধান করতেন হাজি বকর হিসেবে পরিচিত সামির আবদ মুহাম্মদ আল-খলিফা। জার্মান পত্রিকা ডার স্পাইজেল শনিবার তাদের প্রতিবেদনে এমনটাই জানিয়েছে।
সেখানে আরো বলা হয়, ইরাকের সাবেক এই কর্নেল গোপনে বছরের পর বছর আইএসআইএল নিয়ন্ত্রণ করেছেন।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ২০১৪ সালে সংঘর্ষের সময় নিহত হাজি বকরের কাছে থাকা গোপন নথি তারা দেখতে সক্ষম হয়েছেন। যাতে সিরিয়ার বিরাট অংশ দখলে আইএসআইএলের গোয়েন্দা গঠন ও পরিকল্পনা নীল নকশা ছিল। যা পরে তাকফিরির নেতৃত্বে ইরাকের দিকে অগ্রসর হয়।
বকর নথি যা লিখেছে তা ক্ষমতা গ্রহণের নীল নকশার কম কিছু না। আলাদা আলাদা কাঠামোয় ব্যক্তির দায়িত্ব প্রতিটি পৃষ্ঠায় যত্নসহকারে তুলে ধরা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তার সাংগঠনিক তালিকা এবং কমান্ড ধারাক্রমের ছকে একটি সংগঠনের স্বাতন্ত্রসূচক কাঠামো দেখানো হয়েছে। যার সঙ্গে পূর্ব জার্মানির কুখ্যাত অভ্যন্তরিণ গোয়েন্দা সংস্থা স্ট্যাসির সাদৃশ্য রয়েছে।
এসব নথিপত্র থেকে আরো দেখা যায়, ধর্মীয় রূপ দেয়ার জন্য ২০১০ সালে আবু বকর আল-বাগদাদিকে আইএসের নেতা হিসেবে নিয়োগ দেন সামির। সে সময় ইরাকের অনেক প্রাক্তন গোয়েন্দা কর্মকর্তাকেও নিয়োগ দেয়া হয়।
এছাড়া সৌদি আরব, তিউনিশিয়া ও ইউরোপ থেকে জঙ্গিদের জড়ো করার কাজ সরাসরি তত্ত্বাবধান করেছেন তিনি। চেচনিয়া এবং উজবেকিস্তানের প্রাক্তন সেনাদেরও সমাবেশ ঘটিয়েছেন সামির। এদের দিয়ে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চল দখলের পরিকল্পনাও তার তত্ত্বাধানে বাস্তবায়িত হয়েছে।
এআর





