নেপালে প্রবল বৃষ্টিপাতে ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৫৩ জন নিহত হয়েছে। গত তিনদিনে এসব লোক নিহত হন বলে শনিবার দেশটির সরকার জানিয়েছে। বন্যা ও ভূমিধসের ফলে পাহাড়ের দুর্গম লোকালয়গুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। খবর রয়টার্সের।

গত বুধবার থেকে টানা মৌসুমী বৃষ্টির ফলে পাহাড়ে বৃষ্টির ধারায় বড় বড় পাথরখন্ড পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত বাড়িঘরে ধসে পড়ে। এতে হতাহতের ঘটনা বেশি হয়। এ ছাড়া নদী-নালা উপচে পড়ে পার্শ্ববর্তী নিচু গ্রামগুলো প্লাবিত হয়।

৭৫ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া ৩৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিরা কী ধসে পড়া বাড়িঘরে আটকা পড়েছেন নাকি বন্যার পানিতে ভেসে গেছেন তা-ও জানা যাচ্ছে না; কেননা ওইসব অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।

দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নেপালের ২৫ শতাংশেরও বেশি জেলা ভূমিধস ও বন্যায় আক্রান্ত হয়। গত তিনদিনের বৃষ্টি ও বন্যায় দুই শতাধিক বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ছাড়া পানির নিচে রয়েছে শত শত বাড়ি।

৩,৫০০ জনেরও বেশি মানুষকে দুর্গত এলাকা থেকে উদ্ধার করে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় নেপালের নাম রয়েছে। নেপালের পাশাপাশি বাংলাদেশ, ভারত, মাদাগাস্কার ও মোজাম্বিক সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশে বলে ২০১০ সালের এক গবেষণায় দেখিয়েছেন ব্রিটিশ জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ম্যাপলেকরোফট। তিনি গত ৩০ বছরের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব বিশ্লেষণ করে এ তালিকা তৈরি করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, খরা, বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে থাকে। কৃষিপ্রধান নেপালের জন্য বৃষ্টির প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে প্রতিবছর দেশটিতে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকে।

চলতি মাসের শুরুর দিকে, রাজধানী কাঠমান্ডুর নিকট একটি গ্রামে ব্যাপক ভূমিধসে ১৫৬ জন নিহত হন। ভূমিধসের ফলে সে এলাকার সানকোশি নদীর গতিপথ বন্ধ হয়ে মারাত্মক আকার ধারণ করে। নেপালি কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে সেখানকার হাজার হাজার অধিবাসীকে প্রতিবেশী ভারতের বিহারে সরিয়ে নেয়। সূত্র: রয়টার্স

ঢাকা, ১৬ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএমএ