বিশ্বে অতি দ্রুত মহামারী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমিয়ে আনা দেশ দক্ষিণ কোরিয়াতে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। দেশটিতে এই সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়ে আবার ৯১ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
সপ্তাহের শুরুর দিকে এই সংখ্যা ছিলো ৫১ জনে। শুক্রবার এক ব্রিফিংয়ে কোরিয়ার রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (কেসিডিসি) মহাপরিচালক জিয়ং ইউন-কেয়ং এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, এটি আমাদের জন্য খু্বই উদ্বেগজনক। ভাইরাসটি যে কোনোভাবে সংক্রমিত ব্যক্তির মাঝে আবার সক্রিয় হতে পারে। তাই আমরা এর পেছনে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছি।
কোরিয়ার স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ায় করোনভাইরাস থেকে সুস্থ হওয়া কয়েক ডজন মানুষ আবার ভাইরাসে পজেটিভ হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদফতর আরও জানিয়েছে, এমন সংক্রমণ যেন ফের ছড়াতে না পারে, তাই তদন্ত পরিচালনার জন্য তদন্তকারীদের একটি দল দেগু শহরে প্রেরণ করা হয়েছে।
আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ হওয়ার পরও যেন হোম কোয়ারেন্টিন মেনে চলেন। এই ভাইরাস কিছু সংক্রমিত ব্যক্তির মধ্যে সুপ্ত হয়ে থাকে, যার কারণে আবার সক্রিয় হয়ে উঠে।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি দলকে সেই অঞ্চলে প্রেরণ করা হয়েছে, যেখানে লোকেরা এ ক্ষেত্রে মহামারী সংক্রান্ত তদন্ত পরিচালনার জন্য ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল।
দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়োনহাপ বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, যে কোনো মানুষ একবার সুস্থ হলে সে আবার সংক্রমিত হতে পারে।
কোরিয়ার ইউনিভার্সিটি গুরো হাসপাতালের সংক্রামক রোগ বিষয়ক অধ্যাপক কিম-উ-জো একই ব্যক্তির মাঝে এই ভাইরাসটি দ্বিতীয়বার সংক্রমিত হওয়ার এই সংখ্যাটি আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়াতে উল্লেখযোগ্য হারে কমছে সংক্রমণ। শুক্রবার দেশটিতে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন মাত্র ২৭ জন।
দক্ষিণ কোরিয়ার রোগ নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষা কেন্দ্র (কেসিডিসি) তথ্যমতে, দক্ষিণ কোরিয়ায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৪৮০ জন। এদের মধ্যে মারা গেছেন ২১১ জন।
আর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন সাত হাজার ২৪৩ জন। তবে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় দেগু শহরে যাকে ভাইরাস হটস্পট হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছিল, সেখানে প্রথমবারের মতো কোনো নতুন সংক্রমনের ঘটনা ঘটেনি।
এমআর





