গাজায় ইসরাইলি নৃশংসতা শীঘ্রই বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে তুরস্ক। এদিকে, বৃহস্পতিবার ইস্তাম্বুলে অবস্থিত ইসরাইলি কনস্যুলেট ভবনে হামলা চালিয়েছেন বিক্ষুব্ধ জনতা। খবর ওয়ার্ল্ডবুলেটিনের।

তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান ইসরাইলের প্রতি এ আহ্বান জানান। এরদোগান বলেন, "মধ্যপ্রাচ্যের প্রত্যেকটি স্থান আজ রক্তস্নাত।" বৃহস্পতিবার ইস্তাম্বুলে মুসলিম স্কলারদের এক সম্মেলনে এরদোগান এসব কথা বলেন।

এরদোগান আরও বলেন, "মুসলমানদের হাতে মুসলমানদের রক্তাক্ত হওয়াটা সবচেয়ে বেদনাদায়ক।" তিনি মধ্যপ্রাচ্যের মুসলমানদের বিবদমান সকল পক্ষকে সহনশীলতা অবলম্বনের আহ্বান জানান।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, "একজন মুসলিমের কারণে যদি আরেকজন মুসলিমের রক্ত ঝরে এর চেয়ে খারাপ আর কী হতে পারে? তবে, মধ্যপ্রাচ্যে ফিলিস্তিন হচ্ছে একমাত্র ব্যতিক্রম রাষ্ট্র, যেখানে অমুসলিমদের হাতে মুসলমানদের রক্ত ঝরছে।"

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলি বর্বরতার ব্যাপারে মুসলিম দেশগুলোর নীরবতার তীব্র সমালোচনা করেন এরদোগান। গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের ব্যাপারে মুসলিম বিশ্বের নেতৃবৃন্দের নীরবতার জন্য তিনি কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি জানান, তারা (মুসলিম নেতৃবৃন্দ) গাজার ব্যাপারে নীরব, কারণ এখানে মুসলমানদের অন্তর্দ্বন্দ্ব হচ্ছে না।"

তিনি মুসলিম বিশ্বের প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, "গাজায় যখন গণহত্যা চালানো হচ্ছে, তখন মুসলিম বিশ্ব নীরব কেন? ফিলিস্তিনে আমাদের ছেলে-মেয়েদেরকে আমাদের ভাইদেরকে হত্যা করা হচ্ছে। মানবতা সেখানে ধ্বংস হয়ে গেছে; একইসাথে সেখানে ধ্বংস হয়ে গেছে মুসলমানদের মর্যাদা।"

উল্লেখ্য, টানা ১১ দিনের হামলায় গাজায় অন্তত ২৫৯ জন নিহত ও ১৮৬০ জন আহত হয়েছেন। হতাহতদের মধ্যে অনেক শিশুও রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে নতুন করে স্থল, আকাশ ও নৌপথে হামলা শুরু করেছে ইসরাইল। এদিন রাতে নিহত হয়েছেন আরও ২৩ জন ফিলিস্তিনি।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ দাভুতুগলু এক টুইটার বার্তায় ইসরাইলি এ বর্বরতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

দাভুতুগলু আরও জানান, তিনি জাতিংসঘ মহাসচিব বান কি মুনের সঙ্গে কথা বলেছেন। গাজায় ইসরাইলের নির্বিচার গণহত্যার জন্য তুরস্ক শীঘ্রই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরী সভা আহ্বান করবে বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া, ওআইসি (ইসলামী সম্মেলন সংস্থা) ও জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের (ইউএনএইচসিআর)-এরও জরুরী সভা আহ্বান করা হবে বলেও তিনি জানান।

ইসরাইলি অভিযান শীঘ্রই বন্ধের ব্যাপারে দাভুতুগলু মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ও ওআইসি মহাসচিব ইয়াদ মাদানির সঙ্গেও আলোচনা করেছেন।

দাভুতুগলু বিশ্বের প্রতি আহ্বান রেখে বলেন, "ইসরাইলের নির্বিচার ও বেআইনী এ হত্যাযজ্ঞ বন্ধের ব্যাপারে বিশ্বের প্রত্যেকটি দেশ আওয়াজ তুলবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।"

তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকার ও সদস্যরাও ইসরাইলি হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকার সেমিল সিসেক বলেন, "এখন সময় এসেছে ইসরাইলের এই অমানবিক ও নৃশংস হামলা বন্ধের ব্যাপারে আওয়াজ তোলার।" হামলা বন্ধের জন্য ইসরাইলকে বাধ্য করারও আহ্বান জানান তিনি।

তুরস্কের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইমরুল্লাহ ইসলার বলেছেন, "ইসরাইল আগুন নিয়ে খেলা করছে এবং এই খেলার শেষটি হবে পতন দিয়ে।"

ইসরাইলি আগ্রাসনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতার তীব্র সমালোচনার করে পার্লামেন্টের স্পিকার বলেন, "আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আজ ভেঙ্গে পড়েছে।"

এদিকে, একদল বিক্ষোভকারী ইস্তাম্বুলের ইসরাইলি কনস্যুলেটের সামনে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভ মিছিলে নারী ও শিশুরাও অংশ নেন। এ সময় তারা কনস্যুলেট ভবনের করিডোরে ঢুকে দরজা-জানালার কাঁচ ভাংচুর করেন। বিক্ষোভকারীরা এ সময় তুরস্ক ও ফিলিস্তিনের পতাকা এবং ব্যানার ফেস্টুন প্রদর্শন করেন। পুলিশ অবশ্য জলকামান থেকে পানি ছুঁড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

এদিকে, তুরস্কের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে শুক্রবার দেশটিতে সফরে গেছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। দুদিনের এ সফরে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী এরদোগান, প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ দাভুতুগলুর সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকে মূলত গাজায় ইসরাইলি হামলার ব্যাপারে আলোচনা হবে। সূত্র: ওয়ার্ল্ডবুলেটিন

ঢাকা, ১৮ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমএ