মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিস্টোরিকাল সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, ১৮১২ সালের যুদ্ধের পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটলে এই ধরণের আগ্রাসন হল। খবর বিবিসি’র।

১৮১৪ সালে ওয়াশিংটনে অভিযান চালানের সময় ব্রিটিশ বাহিনী নির্মাণাধীন ক্যাপিটল ভবনে আগুন জালিয়ে দেয়।

কীভাবে শুরু হয় সহিংসতা?
আমেরিকার আইন-প্রণেতারা যখন নভেম্বরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জো বাইডেনের জয় আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করার জন্য অধিবেশনে বসেছিলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শত শত সমর্থক তখন আমেরিকার আইনসভা কংগ্রেসের ভবন ক্যাপিটল-এ ঢুকে পড়ে।

দুপুরের পরই আমেরিকার রাজধানী শহরে এই নাটকীয় দৃশ্যে দেখা যায় - শত শত বিক্ষোভকারী ভবনটিতে ঢুকে পড়ছে আর পুলিশ কংগ্রেস সদস্যদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিচ্ছে।

কয়েক ঘণ্টা ভবন কার্যত দখল করে রাখার পর বিক্ষোভকারীরা ধীরে ধীরে ক্যাপিটল প্রাঙ্গণ ছেড়ে বাইরে চলে যেতে থাকে।

এই শোরগোলের মধ্যে বাইডেনের জয় অনুমোদন করার জন্য কংগ্রেস অধিবেশন স্থগিত করা হয়।

হামলা চলাকালে ভবনের ভেতরে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করার খবর পাওয়া গেছে এবং অন্তত একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা যায়।

পরে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নারী মারা গেছেন বলে জানানো হয়।

ওয়াশিংটনে কারফিউ জারি
সহিংসতার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী শহর ওয়াশিংটনে বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্ফু জারি করা হয়েছে।

আজ (০৭ জানুয়ারি) বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এই কারফিউ কার্যকর থাকবে।

ট্রাম্পের টুইটার ও ফেসবুক অ্যাকাউন্টের ওপর নিষেধাজ্ঞা
হামলার প্রেক্ষিতে ফেসবুক ঘোষণা করেছে যে তারা আগামী ২৪ ঘণ্টা ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফেসবুক পেজ থেকে কোন পোস্ট অনুমোদন করবে না।

এর আগে টুইটারও ট্রাম্পের অ্যাকাউন্ট ১২ ঘণ্টার জন্য লক করে দিয়েছে।

এখন পর্যন্ত ১৩ জন গ্রেফতার
ক্যাপিটল হিলের সহিংসতার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ওয়াশিংটন ডিসি’র মেট্রোপলিটান পুলিশ জানিয়েছে তারা বিভিন্ন ধরণের অন্তত ৫টি বন্দুক জব্দ করেছে।

পুলিশ বিভাগের প্রধান জানিয়েছেন আহত কয়েকজন পুলিশ অফিসারকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর নেতাদের প্রতিক্রিয়া
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিলে সহিংসতার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

ক্যানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছেন 'গণতন্ত্রের ওপর হামলা'র ঘটনায় 'ক্যানাডিয়ানরা অত্যন্ত চিন্তিত।'

আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট অ্যালবার্টো ফার্নান্দেজ জো বাইডেনের প্রতি তার সমর্থন জানিয়েছেন এবং সহিংসতার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন।

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ইভান ডুক সহিংসতার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন এবং কংগ্রেসের সদস্যধের প্রতি তার সমর্থন জানিয়েছেন।

চিলির প্রেসিডেন্ট সেবাস্টিয়ান পিনেরা 'গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পরিবর্তনের প্রয়াস'এর নিন্দা জানিয়েছেন।

এমবি