ইয়েমেনের লাখ লাখ সাধারণ মানুষ দুর্ভিক্ষের শঙ্কার মধ্যে আছেন। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচী (ডব্লিউএফপি)'র প্রধান ইরথারিন কাজিন এ কথা জানিয়েছেন।

বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের সংস্থাটি জানিয়েছে, ইয়েমেনের প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছেন। এমনিতেই খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা বিশ্বের পাঁচটি দেশের মধ্যে ইয়েমেন একটি।

ডব্লিউএফপি'র নির্বাহী পরিচালক ইরথারিন কাজিন তিন দিনের জন্য ইয়েমেন সফর করেছেন। তিনি দেশটির রাজধানী সানা, এডেন ও আরমানে গৃহহীন হয়ে পড়া পরিবার ও পুষ্টিহীনতার শিকার শিশুদের মায়েদের সঙ্গে দেখা করেছেন। এছাড়া তিনি দেশটিতে উভয় পক্ষের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন।

শিয়াপন্থী হুথি বিদ্রোহীরা এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট আলি আব্দুল্লাহ সালেহ অনুগত সৈন্যদের সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী, আদিবাসী যোদ্ধা এবং সৌদি আরবে পালিয়ে যাওয়া প্রেসিডেন্ট আবদ রাব্বু মানসুর আল হাদির সমর্থক সৈন্যদের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

গত মার্চ মাস থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত আরব জোটের সৈন্যরা হুতি বিদ্রোহীদের উপর বিমান হামলা চালাচ্ছে।

ইয়েমেন পরিদর্শন শেষে ইরথারিন কাজিন সতর্ক করেছেন যে খাদ্য সহায়তা জরুরী হয়ে পড়া মানুষদের কাছে তাৎক্ষণিক বাধাহীনভাবে সহায়তা পৌঁছাতে না পারা এবং অর্থের অভাবে লাখ লাখ মানুষ সম্ভাব্য দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি হবেন। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা ইতোমধ্যে বুভুক্ষ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

কাজিন বলেন, এই সঙ্কট শুরু হওয়ার আগেই বিশ্বের অন্যতম পুষ্টিহীন দেশের তালিকায় ছিল ইয়েমেন। আমরা এখন যা দেখছি, তা হচ্ছে আমাদের কর্মীরা জরুরী সাহায্য নিয়ে পৌঁছাতে বাধা প্রাপ্ত হওয়ায় মারাত্মক পুষ্টিহীনতার সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ডব্লিউএফপি প্রধান আরো বলেন, ওই সব শিশুদের জীবন বাঁচাতে এবং তাদের জন্য দরকারী পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে আমার এখন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

বিবৃতি অনুযায়ী, সম্প্রতি মোবাইল ফোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে ও দুর্গম এলাকায় নিজেদের দল নিয়ে কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সেখানকার দুর্দশা যাচাই করেছে ডব্লিউএফপি। এতে দেখা গেছে, অভ্যন্তরীণভাবে গৃহহীন হয়ে পড়া মানুষগুলোর খাদ্য নিরাপত্তার অবস্থা সবচেয়ে বেশি অবনতি হচ্ছে। অনেক পরিবার শুধু রুটি, ভাত ও চা দিয়ে জীবন পার করছে।

মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলা সাধারণ মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়েছে। সংস্থাটির তদন্তে দেখা গেছে, বিমান হামলায় শিশুসহ কমপক্ষে ১৪১ জন নিহত হয়েছেন।

কিন্তু সৌদি জোট সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কথা অস্বীকার করেছে।

সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকে ইতোমধ্যে ৩৫ লাখ মানুষের কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছিয়েছে ডব্লিউএফপি। কিন্তু যুদ্ধের কারণে খাদ্য সরবরাহ করা কঠিন ও বিপজ্জক হয়ে পড়েছে।

জেডআই