ইসরাইলের গণমাধ্যমগুলো খবর দিয়েছে, গাজা উপত্যকায় ৫০ দিনের আগ্রাসনে শক্তিশালী অবস্থানে থেকে যুদ্ধ করতে না পারার কারণে ইসরাইলি সেনাপ্রধান জেনারেল বেনি গানতেজকে সরিয়ে দিতে যাচ্ছেন যুদ্ধমন্ত্রী মোশে ইয়ালোন।

ইসরাইলি দৈনিক হারেতজ জানিয়েছে, যুদ্ধমন্ত্রী মোশে ইয়ালোন এরই মধ্যে নয়া সেনাপ্রধানের নামও ঠিক করে ফেলেছেন। দু’সপ্তাহ পর ইসরাইলি মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের জন্য এ নামটি তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমাও দিয়েছেন।

৫০ দিনের গাজা যুদ্ধে ইসরাইলের পরাজয়ের পর থেকেই যুদ্ধমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের মধ্যে মতপার্থক্য তীব্র হয় এবং এর জের ধরে এরইমধ্যে বেশ কয়েকজন পদস্থ জেনারেলকে সেনাবাহিনী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সম্প্রতি মোশে ইয়ালোন ইসরাইলের বিমান বাহিনীর প্রধান হ্যাজি তুবলোনেস্কিকে সরিয়ে দিয়ে আমিক্যাম নুরকিনকে তার স্থলাভিষিক্ত করেছেন।

ইহুদিবাদী সেনাপ্রধানকে সরিয়ে দেয়ার সম্ভাবনার খবর এমন সময় প্রকাশিত হলো যখন গত কয়েক দিনে পদস্থ ইসরাইলি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে মন্ত্রিসভার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার হিড়িক পড়ে গেছে।

ইসরাইলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গেডআউন সায়ের এরইমধ্যে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছে।

কোনো কোনো গণমাধ্যম আভাস দিয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ নেতানিয়াহু মন্ত্রিসভার পতনের সূচনা হতে পারে।

ইসরাইলি কর্মকর্তাদের মধ্যে পদত্যাগ ও বরখাস্তের এসব ঘটনা প্রমাণ করে, গাজা উপত্যকায় আগ্রাসন চালাতে গিয়ে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগ্রামীদের হাতে প্রচণ্ড মার খেয়েছে তেল আবিব।

গত আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের ৫০ দিনের এ যুদ্ধে প্রচুর ইহুদিবাদী সেনা নিহত হওয়া ছাড়াও ইসরাইলের অর্থনীতির মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। এ কারণে এ যুদ্ধের বিরোধীরা গাজায় আগ্রাসনের জন্য নেতানিয়াহু সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন।

ইসরাইলের গোয়েন্দা ও পরিকল্পনামন্ত্রী ইউয়াল এশতাইনিতজ ইসরাইলের বর্তমান মন্ত্রিসভায় আমূল পরিবর্তন এনে নতুন মন্ত্রিপরিষদ গঠনের দাবি জানিয়েছেন।

ইসরাইল গত ৮ই আগস্ট অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার ওপর পাশবিক হামলা শুরু করে। মিশরের মধ্যস্থতায় তেল আবিব ও ফিলিস্তিনি সংগ্রামী দলগুলোর মধ্যে এ যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে ২৬ আগস্ট ৫০ দিনের এ যুদ্ধ শেষ হয়। ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসসহ সব প্রতিরোধ সংগঠনকে ‘ধ্বংস’ অথবা ‘নিরস্ত্র’ করার লক্ষ্যে তেল আবিব এ যুদ্ধ শুরু করলেও সেসব লক্ষ্য অর্জন ছাড়াই যুদ্ধবিরতি মেনে নেয় ইসরাইল।

ফলে গাজা যুদ্ধে ইহুদিবাদী সরকারের পরাজয়ও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এর আগেও দু’দুবার গাজায় আগ্রাসন চালিয়ে পরাজিত হয় তেল আবিব। সেসব পরাজয়ের পরও নিজের মন্ত্রিসভা ও সেনাবাহিনীতে ব্যাপক রদবদল করতে বাধ্য হয়েছিল ইসরাইলি সরকার। রেডিও তেহরান

ইআর