ইরাক ও সিরিয়ার সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইরত ইসলামি জঙ্গি সংগঠন দা ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড দ্য লেভান্ত (আইএসআইএল) ওই দেশ দুটিতে খিলাফত প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে।

রোববার অনলাইনে প্রচারিত এক অডিও বার্তায় সশস্ত্র গোষ্ঠী আইএসআইএলের প্রধান আবু বকর আল বাগদাদিকে মুসলিম বিশ্বের খলিফা হিসেবেও ঘোষণা করা হয়। এছাড়া এই সংগঠনটির নামেও কিছুটা সংস্কারের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

নতুন এই খিলাফতের সীমানা ইরাকের দিয়ালা থেকে সিরিয়ার আলেপ্পো পর্যন্ত বিস্তৃত হবে বলেও জানানো হয়েছে।

আইএসআইএলের মুখপাত্র আবু মোহাম্মদ আল আদনানি অডিও বার্তায় বলেন, ‘ইসলামি স্টেটের শূরার (পরিষদ) সদস্যরা এক বৈঠকে ইরাক ও সিরিয়ার খিলাফতের শাসনপ্রতিষ্ঠা ও মুসলিম রাষ্ট্রের জন্য একটি খলিফা মনোনীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

ওই ভিডিও বার্তায় আদনানি আরো বলেন, ‘আইএসআইএলের নাম থেকে ‘ইরাক’ ও ‘লেভান্ত’ শব্দ দুটি বতিল বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এখন থেকে কাগজে কলমে একে কেবল ইসলামি

স্টেট হিসেবেই উল্লেখ করা হবে।’ তিনি তাদের ‘খিলাফত’ ঘোষণার পক্ষে সাফাই দিতে গিয়ে বলেন, এটি ছিল সকল মুসলমানদের স্বপ্ন এবং সকল জিহাদিদের আকাঙ্খা।’
আর এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি ‘একটি সত্যিকারের মুসলিম রাষ্ট্রের’ খলিফা হিসেবে বৈধতা লাভ করলো বলেও তিনি জানান।

তবে তাদের এই ঘোষণার ফলে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী নূরি আল মালিকির সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইরত অন্যান্য সুন্নি যোদ্ধাদের সঙ্গে তাদের বিভেদ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কারা আইএসআইএল?

সন্ত্রাসী দল আল-কায়দার নতুন সংস্করণ ইসলামিক স্টেট অফ ইরাক এন্ড লিভান্ট বা সংক্ষেপে 'আইএসআইএল' একটি ওয়াহাবি-সালাফি জঙ্গি সংগঠন। গ্রুপটির নাম থেকেই বোঝা যায় উগ্র বা কথিত সালাফি ইসলামের ভিত্তিতে ইরাক ও আশশাম তথা বৃহত্তর বা প্রাচীন সিরিয়ায় (লেবানন ও ফিলিস্তিনসহ) একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা গ্রুপটির উদ্দেশ্য।

অনেকেই মনে করেন আফগানিস্তানে সাবেক সোভিয়েত দখলদারিত্ব ও প্রভাব মোকাবেলার জন্য আমেরিকাই বিন লাদেনকে দিয়ে গঠন করেছিল আল-কায়দা ও আরো পরে গঠন করে তালিবান।
তালিবান ও আল-কায়দাকে দ্বিমুখী বা ত্রিমুখী কাজে ব্যবহার করেছে সিআইএ। প্রথমতঃ ইসলামের নাম ভাঙ্গিয়ে এক শ্রেণীর যুবককে শত্রুর বিরুদ্ধে ব্যবহার করা, দ্বিতীয়তঃ প্রথম এই উদ্দেশ্য হাসিলের পর তথা সরলমনা ধর্মান্ধ যুবকদের ব্যবহার করার পর ইসলামের নামে ধর্মান্ধতার বিস্তার ও জঙ্গিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে ইসলাম সম্পর্কে আতঙ্ক ও খারাপ ধারণা ছড়িয়ে দেয়া এবং তৃতীয়তঃ এদেরকে সন্ত্রাসী তৎপরতায় ব্যবহার করে সেই একই সন্ত্রাস দমনের নামে দেশে দেশে হস্তক্ষেপ করতে সক্ষম হয় আমেরিকা।

যাই হোক, ২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন হামলার সময় সর্বপ্রথম গঠিত হয়েছিল 'আইএসআইএল' গ্রুপ। তখন গ্রুপটির নাম ছিল ইসলামিক স্টেট অফ ইরাক।২০০৬ সালের ১৫ অক্টোবর বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার পর 'আইএসআই'-এর আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশের কথা ঘোষণা করা হয় এবং আবু ওমর আল বাগদাদি গ্রুপটির নেতা বলে জানানো হয়।
২০১০ সালের ১৯ এপ্রিল আবু ওমর নিহত হলে আবুবকর আল বাগদাদি এই জঙ্গি গ্রুপটির নতুন প্রধান হয় এবং মধ্যপ্রাচ্যে গ্রুপটির বিস্তার শুরু হয়।
'নয়া বিন লাদেন' নামে খ্যাত বাগদাদিকে ধরিয়ে দেয়ার জন্য মার্কিন সরকার দশ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। বাগদাদি ২০০৫ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ইরাকের উম্মে কাসর শহরে একটি মার্কিন কারাগারে বন্দি ছিল। ২০০৩ সালের আগেও সে আল-কায়দার সদস্য ছিল বলে মনে করা হয়। তাকেসহ হাজার হাজার চরমপন্থি বন্দীকে মুক্তি দেয়া হয় উম্মে কাসর শহরের 'বুকা' কারাগার থেকে।

ঢাকা, ৩০ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম)//এসএইচ